Ajker Patrika

ফেব্রুয়ারিতে ১৮৭ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৪ জনের মৃত্যু

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০: ৪১
ফেব্রুয়ারিতে ১৮৭ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৪ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

আজ রোববার (৮ মার্চ) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৪ জন, বাসের যাত্রী ২২ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের আরোহী ১৬ জন এবং থ্রি-হুইলারের ৬৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৭ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় মহাসড়কে ১৫৭টি, আঞ্চলিক সড়কে ২১৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি, শহরের সড়কে ৮৪টি এবং অন্যান্য স্থানে ৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১১৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২৮টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৪টি পথচারীকে চাপা দিয়ে, ৬৮টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় মোট ৮২৬টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৯৯টি, থ্রি-হুইলার ১৫২টি, বাস ৯৪টি, ট্রাক ১৩৮টি, পিকআপ ২৪টি, ট্রাক্টর ২৯টি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেট কার ১২টি এবং অন্যান্য যানবাহন রয়েছে।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, সকালে ২২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুপুরে ২০ দশমিক ১১, বিকেলে ১৫ দশমিক ৪৭, সন্ধ্যায় ১৬ দশমিক ৬৩ এবং রাতে ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা ও অদক্ষতা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংগঠনটির মতে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৭০ জন নিহত হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জনে নেমেছে। তবে এই হ্রাসকে স্থায়ী উন্নতির লক্ষণ বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত