Ajker Patrika

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের মৃত্যুতে উদীচীর শোক, কাল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৪০
শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের মৃত্যুতে উদীচীর শোক, কাল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা
শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন। ছবি: সংগৃহীত

উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সাবেক নাট্য সম্পাদক, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে। পরে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম এক শোকবার্তায় বলেন, আখতার হুসেনের প্রয়াণে দেশের শিশুসাহিত্যজগৎ ও প্রগতিশীল আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

উদীচীর নেতারা শোকবার্তায় জানান, ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্ম নেন আখতার হুসেন। ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীল আদর্শে বিশ্বাসী আখতার হুসেন ষাটের দশকে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতাসংগ্রাম সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলায় আখতার হুসেনের ভূমিকা ছিল অনন্যসাধারণ। ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্তসহ প্রগতিশীল সংগঠকদের উদ্যোগে উদীচী প্রতিষ্ঠার সময় তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি।

১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে উদীচীর জনপ্রিয় বেশির ভাগ পথনাটকের রচয়িতা ছিলেন আখতার হুসেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য পথনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আলো আসছে’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘শপথ নিলাম’ ও ‘সামনে লড়াই’।

স্বাধীনতার পর উদীচীর কেন্দ্রীয় নাট্য সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন আখতার হুসেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তাঁর লেখা ও সুরকার অজিত রায়ের সুরে শিল্পী তিমির নন্দীর গাওয়া গান—‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’—জাতির গৌরবের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সংগীত ‘আমরা তো ঐক্যের দৃঢ়বলে বলীয়ান, শোষণের কারাগার ভাঙবই’-এর রচনাও করেন আখতার হুসেন।

সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত আখতার হুসেন শিশুদের জন্য অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য রচনা করেছেন। পেশাগত জীবনে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন আখতার হুসেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে প্রথমে তাঁকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং এরপর তাঁকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন আখতার হুসেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

তেজগাঁওয়ে নিজ বাসভবনের কাছে আজ সন্ধ্যায় আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ রাখার পর আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

উদীচীর নেতারা আখতার হুসেনের পরিবার ও শোকসন্তপ্ত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত