Ajker Patrika

১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা
ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা

শরীয়তপুরে ডামুড্যায় ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। আজ সোমবার উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের উত্তর আকালবরিশ এলাকার একটি খোলা মাঠে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এর আগে আজ ভোরে ওই এলাকার একটি সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর বোমা ভর্তি ৮ থেকে ১০টি ব্যাগ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

ভেদরগঞ্জ সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুশফিকুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী জেলা মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে দুই বিবাদমান পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধ আরও বৃদ্ধি পায়। গতকাল রোববার রাতে বালিগ্রাম ইউনিয়নে একটি গ্রুপ প্রবেশের চেষ্টা করে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। আরেকটি গ্রুপ তাদের প্রতিহত করে।

ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা
ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা

প্রতিরোধের মুখে ওই গ্রুপটি এলাকায় ঢুকতে না পেরে ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়ন হয়ে পিছু হটে। যাওয়ার পথে ধানকাঠি ইউনিয়নের উত্তর আকালবরিশ নতুন বাজার এলাকায় সড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে ৮ থেকে ১০টি ব্যাগ ভর্তি বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য রেখে যায়।

ভোরে ফজরের নামাজের পর মুসল্লিরা ওই সড়ক দিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোককে অটোতে করে যেতে দেখেছেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এক মহিলা গরুর জন্য খাবার আনতে গেলে ঝোপঝাড়ের মধ্যে এই ব্যাগগুলো দেখতে পান। ৯৯৯ এর কলের সূত্র ধরে ডামুড্যা থানা–পুলিশ ও কালকিনি থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়।

ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা
ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিলে তারা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে ১০টি ব্যাগ থেকে ১২৩টি হাত বোমা উদ্ধার করে তারা। সন্ধ্যার সময় বোমাগুলো একসঙ্গে মাটিতে পুতে ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশ ধারণা, দুর্বৃত্তরা বোমাগুলো পরবর্তীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল।

ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা
ডামুড্যা ১২৩টি হাতবোমা নিষ্ক্রিয় করল ডিএমপির ডিসপোজাল ইউনিট। আজকের পত্রিকা

জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুশফিকুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীরা রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ে ককটেল ভর্তি ১০টি ব্যাগ রেখে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থালে আসে এবং এলাকাটা নিরাপত্তার বেষ্টনীতে রাখা হয়। পরে ঢাকা ডিএমপি পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোম ডিস্পোজাল ইউনিট এসে ব্যাগ থেকে ১২৩টি ককটেল উদ্ধার করে।

বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের সদস্যরা ৩০০ গজ দূরে নিরাপদ স্থানে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত করে।’ দুষ্কৃতকারীরা কী উদ্দেশ্যে ককটেলগুলো ফেলে গেছে এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

উদীচী ট্র্যাজেডি দিবসে ৩ মিনিট স্তব্ধ নেত্রকোনা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ ৮ ডিসেম্বর, নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস। দুই দশক আগে ২০০৫ সালের এই দিনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নেত্রকোনা কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা করে জঙ্গিসংগঠন জেএমবি। ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আজ সোমবার ১০টা ৪০ মিনিট থেকে তিন মিনিট ‘স্তব্ধ নেত্রকোনা’ কর্মসূচি পালিত হয়।

নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস উদ্‌যাপন কমিটি এই কর্মসূচি দেয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ঘড়ির কাটায় ১০টা ৪০ বাজার সঙ্গে সঙ্গে নেত্রকোনাবাসী তিন মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় শহরের রাস্তায় যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে থাকে, হাঁটেননি কোনো পথচারীও। দোকানিরাও এ সময় নেমে আসেন রাস্তায়। তাঁরা শ্রদ্ধা জানান ২০ বছর আগে নেত্রকোনা উদীচীতে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি। পাশাপাশি ঘৃণা জানানো হয় জঙ্গিগোষ্ঠীকে।

দিনটি উপলক্ষে আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জেলা শহরের উদীচী কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, উদীচী ট্র্যাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও গণসংগীত হয়। সেখানে মানব না এই বন্ধনে, তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর, কারা মোর ঘর ভেঙেছে, এ লড়াই বাঁচার লড়াই, প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ইত্যাদি গণসংগীত গান শিল্পীরা। এ সময় ট্র্যাজেডি দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, বোমা হামলায় আহত সংস্কৃতিকর্মী তুষার কান্তি রায়, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান, গবেষক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন পরিষদ নেত্রকোনা শাখার সভাপতি পূরবী কুণ্ডু, কবি এনামূল হক পলাশ, নারী নেত্রী কোহিনূর বেগম, নারী প্রগতির কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মৃণাল চক্রবর্তী, প্রথম আলোর প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তী প্রমুখ। পরে তিন মিনিট ‘স্তব্ধ নেত্রকোনা’ কর্মসূচি পালন শেষে সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী মানববন্ধন হয়। শেষে শহীদদের কবর জিয়ারত, শ্মশানের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়।

আজ সমাবেশ চলাকালে নেত্রকোনা উদীচীর সহসভাপতি মাসুদুর রহমান খান বলেন, ‘দ্রুত বিচার ও বিস্ফোরক মামলার রায় কার্যকর হওয়ায় আমরা খুশি। তবে জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটন করতে হলে আরও শিকড়ে যেতে হবে। স্থানীয় মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব হবে না।’

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নেত্রকোনা সংসদ কার্যালয়ের সামনে জেএমবির বোমা হামলায় প্রাণ হারান জেলা উদীচীর সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলি, মোটরসাইকেল মেকানিকস যাদব দাস, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী রাণী আক্তার, মাছ বিক্রেতা আফতাব উদ্দিন, শ্রমিক রইছ মিয়া ও ভিক্ষুক জয়নাল। এ ছাড়া বোমা হামলাকারী আল বাকি মো. কাফিও নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক।

এদিকে ঘটনার ২০ বছর পার হলেও এখনো সেই স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম খাজা হায়দার হোসেনকে হারিয়ে এখনো দিশেহারা তাঁর স্ত্রী শাহানাজ পারভিন। স্বামীর রেখে যাওয়া এক চিলতে জায়গার ওপর একটি টিনের চালাঘরে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকেন তিনি। আর শহরের নিউটাউন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে সুদীপ্তা পাল শেলির পরিবার। একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়েকে হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে দিন পার করছেন মা অরুণা রাণী পাল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ: তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ২০২৩–২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাত উল্লাহ তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার এ নির্দেশ দেন।

কারাগার থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীর পক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং দুদিনের পুলিশ রিমান্ডে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৬ নভেম্বর তিতুমীর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে কলেজে নেন এবং বনানী থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘ফারিহা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি ‘শাহ মাহমুদ’ নামের আরেক ফেসবুক আইডির একটি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে। ওই মন্তব্যে নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, ফারিহা আক্তার নামের আইডিটি নকল এবং সেটি ব্যবহার করতেন ওই শিক্ষার্থী।

ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ক্যাম্পাসে আটক করেন এবং ঘটনাটি কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে আসে। সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থী নিজের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তাঁকে আটকের পর বনানী থানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যসহ মুসলিম নারীদের পোশাক ও আচরণ নিয়ে আপত্তিকর কথা লিখতেন ফেসবুকে। এগুলো শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে না, বরং নারীদের মর্যাদাকেও অপমান করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ব্রাকসু নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিল ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল

বেরোবি প্রতিনিধি 
ব্রাকসু নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিল ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ এবং মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদ। নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় একাধিক ভুলত্রুটি ও এক পক্ষের চাপে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, শিক্ষার্থীদের বহুল প্রত্যাশিত ব্রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুমোদন হলেও শুরু থেকে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের চরম অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ আজ হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শীতকালীন ছুটির দাবির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য গঠনতন্ত্র ও ভোটার তালিকায় অসংখ্য ভুলত্রুটি নিয়ে তড়িঘড়ি করে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুবার পদত্যাগ ও একবার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার পর তারা কথা দিয়েছিল—ভোটার তালিকায় বিদ্যমান ত্রুটিগুলো তারা সংশোধন করে পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

মাইদুল আরও বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত। ত্রুটিগুলো নিয়েই তারা আবারও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শীতকালীন ছুটির বিষয়টিকে উপেক্ষা করে একটি পক্ষের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য একটি প্রহসনমূলক নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমরা অনাস্থা প্রকাশ করছি, কারণ, এই কমিশনের সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেওয়ার সক্ষমতা নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

খাঞ্জা বিল দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ। ছবি: আজকের পত্রিকা
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে ধলেশ্বরীর খাঞ্জা বিল দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বেলা ১টার দিকে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানায়, ধলেশ্বরী খাঞ্জা বিলের দখল নিয়ে শিবপুর গ্রামের জনকল্যাণ সমবায় সমিতি ও সন্তোষপুর আনন্দময়ী মৎস্যজীবী সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শিবপুরের হারিছ মিয়া জনকল্যাণ সমবায় সমিতির এবং স্বজন গ্রামের আনন্দময়ী মৎস্যজীবী সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপম। আজ উভয় পক্ষ বিলটি দখল নিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এই দুপক্ষের মধ্যে এর আগে তিনবার সংঘর্ষ হয়েছে।

লাখাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণচন্দ্র মিশ্র বলেন, ধলেশ্বরী খাঞ্জা বিল নিয়ে দুটি সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে দুপুরে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে সংঘর্ষ থামায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগেও বিল নিয়ে দুপক্ষের লোকজন একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত