Ajker Patrika

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার: যানজট সমাধানে টোলমুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ

  • বাসসহ টোলমুক্ত করার পরামর্শ।
  • সায়েদাবাদের র‍্যাম্প চালুর প্রস্তাব।
  • দীর্ঘমেয়াদি সমাধান রিং রোডে।
  • নিচের সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো।
তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 
গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার: যানজট সমাধানে টোলমুক্ত করাসহ একগুচ্ছ সুপারিশ

রাজধানীর গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার (উড়ালসড়ক) যানজট কমানোর বদলে যানজটের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনেক দিন ধরে ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা, ওঠার র‍্যাম্প, সংযোগ সড়ক এবং আশপাশের বাস টার্মিনাল ঘিরে যান চলাচলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সমাধান করতে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করা, নিচের সড়ক প্রশস্ত করা, বাস চলাচল পুনর্বিন্যাসসহ একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের যানজট নিরসনে বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামছুল হকের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের ওপর ডিটিসিএর পর্যালোচনায় বিভিন্ন সুপারিশ উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে উপস্থাপনা দেওয়া হয়।

ডিটিসিএ মনে করছে, ফ্লাইওভারের টোল আদায়ের কারণে যানবাহনের গতি কমার পাশাপাশি সংলগ্ন সড়কেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই চুক্তির মেয়াদ শেষে জনস্বার্থে ফ্লাইওভারটি টোলমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। টোল আদায় অব্যাহত থাকলে সেখানে দ্রুত কাজ করা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালুর কথাও বলা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে গুলিস্তান ও চানখাঁরপুলের মতো এক্সিট সড়কে নতুন করে যানজট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

ফ্লাইওভারের ওপর আন্তজেলা বাসের চাপ কমাতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বিদ্যমান প্রবেশ ও নির্গমন র‍্যাম্প ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাসের জন্য টোলমুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেছে ডিটিসিএ।

সংকীর্ণ সড়ক প্রশস্ত করার ভাবনা: ডিটিসিএর পর্যালোচনায় গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের আশপাশের সড়ক প্রশস্ত করার কয়েকটি সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। দোলাইরপাড়ের বিদ্যমান গোলচত্বরের প্রশস্ততা কমিয়ে সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিটিসিএর মতে, রাজধানীর ভেতরে আন্তজেলা বাসের প্রবেশ এবং অবস্থান কমানো গেলে ফ্লাইওভারের ওপর চাপও কমবে।

সমাধানে দরকার রিং রোডও: শুধু ঢাকার ফ্লাইওভারের আশপাশের সড়ক প্রশস্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছে ডিটিসিএ। এ জন্য শহরের চারপাশে দ্রুত সার্কুলেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। ডিটিসিএর পর্যালোচনা অনুযায়ী, মিডল রিং রোডের গাজীপুরের কড্ডা থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন পর্যন্ত সড়ক রয়েছে। কাঞ্চন থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। ভুলতা থেকে মদনপুর হয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত সড়কও রয়েছে। তবে এই অংশের প্রশস্ততা বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে কড্ডা থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত চন্দ্রা হয়ে জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে। গাবতলী থেকে বাবুবাজার সেতু, ইকুরিয়া হয়ে এন ৮ পর্যন্ত ইনার রিং রোডের অংশও রয়েছে। রায়েরবাজার থেকে লোহারপুল পর্যন্ত উন্নয়নকাজ চলছে। লোহারপুল থেকে ইকুরিয়া পর্যন্ত বাবুবাজার সেতুসহ সড়ক উন্নয়ন করতে হবে। কেরানীগঞ্জ থেকে এন ৮ মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়কও বিদ্যমান। শুধু এন৪-এর কালাকান্দি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত অংশে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন হবে।

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নকশা ও বর্তমান ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা দেখছে ডিটিসিএ। ফ্লাইওভারের শেষ প্রান্ত ও র‍্যাম্পের অবস্থান অধ্যাপক ড. শামছুল হকের সুপারিশ অনুযায়ী করা হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডপি) (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘মূল কাঠামোর কোনো ক্ষতি না করে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো যায় কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে। টোল থাকবে। তবে ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির গতি নির্বিঘ্ন রাখা যায় কি না, তা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত