Ajker Patrika

রাজধানীর খামারবাড়িতে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে আবার পোস্টার, দুই পক্ষের উত্তেজনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৩৫
রাজধানীর খামারবাড়িতে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে আবার পোস্টার, দুই পক্ষের উত্তেজনা
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তিন কর্মকর্তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাঁটানো পোস্টার। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তিন কর্মকর্তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে আবার পোস্টার লাগানো হয়েছে। আজ সোমবার খামারবাড়ি, কেআইবির সামনের দেয়াল ও মেট্রোরেলের পিলারে এ পোস্টার লাগানো হয়। এদিকে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই রকম পোস্টার লাগানো হয়েছিল খামারবাড়ি এলাকায়। ডিএইর কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষি খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী খামারবাড়িতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ডিএই প্রশাসন।

আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয়তাবাদী সচেতন কৃষিবিদ সমাজের ব্যানারে সাঁটানো পোস্টারে ছবি রয়েছে ডিএইর টিস্যু কালচার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তালহা জুবায়ের মাশরুর, উপপরিচালক (প্ল্যানিং) সাখাওয়াত হোসেন ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মুরাদুল হাসানের। কৃষি খাত রক্ষার্থে তাঁদের অপসারণ দাবি করা হয়েছে পোস্টারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, আজ ভোরে পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিএইর কয়েকজন কর্মচারী পোস্টারগুলো নামাতে গেলে কেআইবি থেকে কৃষিবিদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) এক নেতার কয়েকজন অনুসারী তাঁদের ধাওয়া দেন।

এ বিষয়ে জানতে এ্যাবের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লবকে মেসেজ ও কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পোস্টারে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়ের মাশরুর সম্পর্কে বলা হয়, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী তিনি। চব্বিশের ৪ আগস্ট শান্তি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ও অর্থদাতা, বিগত সময়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের সম্পর্কে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্যকারী তিনি। তাঁর সম্পর্কে আরও বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন ফেসবুকে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশকারী কর্মকর্তা এখন টিস্যু কালচার, মিনি হিমাগারসহ একাধিক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

পোস্টারে উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি কখনোই ছাত্রদল ও বিএনপিপন্থী পেশাজীবী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় আওয়ামী লীগ আমলে এনএটিপি প্রকল্পের পিডি হয়েছিলেন।

উপপরিচালক মুরাদুল হাসান সম্পর্কে পোস্টারে লেখা হয়েছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সময়ে জামায়াতপন্থী কৃষিবিদ ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরকে সোনার নৌকা উপহার দিয়েছিলেন।

পোস্টারে মুরাদুল হাসান সম্পর্কে আরও বলা হয়, যাঁর বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো ভূমিকা ছিল না, অথচ তিনিই এখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সব বদলি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করছেন।

তবে মুরাদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টারে তোলা অভিযোগগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্যও ছিলেন। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের প্যানেলে শেরেবাংলা কৃষি বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, কে বা কারা পোস্টার লাগিয়েছেন, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। যাঁরা এ কাজ করেছেন, তাঁরা মোটেই ঠিক করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত