Ajker Patrika

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন, সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১৪: ৪৭
পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন, সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
ফাইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সুনামি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন আগামী রোববার ৭ জুন রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, মামলায় ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, মামলার বিভিন্ন আলামত, ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্ত প্রতিবেদন সবকিছু পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এমন একটি নৃশংস বীভৎস ও স্পর্শকাতর ঘটনায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। বাদীপক্ষেও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মামলার আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বেলা ১১টায় শুনানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাজতখানায় স্বপ্না খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুনানি শুরু হতে দেরি হয়। হাজতখানায় চিকিৎসা শেষে স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

গতকাল বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। সোহেল রানা ক্ষমাও চান। পরে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সোমবার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। ওই দিন অভিযোগ গঠনের পর মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরদিন বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ হয়।

আট বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা একটি নৃশংসতম ঘটনা। ট্রাইব্যুনালে যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরা সেই নৃশংসতার বর্ণনা করেছেন। শিশুটির মা, বাবা, বোন, ফুফু, ফুপা, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ সদস্যরা ও চিকিৎসক সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, অ্যাভিনিউ-৭-এর ৩৭ নম্বর বাসার ৫ তলা ভবনের তৃতীয় তলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে আট বছরের শিশু পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর মাথাবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন ছিল। একটি বালতি থেকে শিশুটির মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে ভোরে আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একই দিন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত