Ajker Patrika

মোহাম্মদপুরে হামলায় আহত শ্রমিক দল নেতার মৃত্যু, পরিবার-পুলিশের দাবি ভিন্ন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৫২
মোহাম্মদপুরে হামলায় আহত শ্রমিক দল নেতার মৃত্যু, পরিবার-পুলিশের দাবি ভিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোহাম্মদপুরের শ্রমিক দল নেতা আবু বকর সিদ্দীক রাসেল সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। নিহত রাসেলের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রাসেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

১৩ আগস্ট হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন ছিলেন রাসেল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, রাসেল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন।

তবে রাসেলের স্ত্রী শিরিন আক্তার পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, রাসেল কোনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মোহাম্মদপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়েন।

নিহত রাসেলের স্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মোহাম্মদপুর শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দাবি করে জানান, রাসেল এবার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন।

হামলার এক দিন পর, ১৫ আগস্ট শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রাসেলের স্ত্রী। মামলায় মোহাম্মদপুরের জাহিদ হোসেন মোড়ল, জেনেভা ক্যাম্পের পিচ্চি জুয়েল, শেরেবাংলা নগর এলাকার পিচ্চি রাকিব, জাহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মনির হোসেনসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে শিরিন আক্তার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাহিদ হোসেন মোড়ল তাঁর স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ আগস্ট রাতে রাসেলের ওপর হামলা চালানো হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন রাত ৮টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে জাহিদ হোসেন মোড়লের নির্দেশে অন্য আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে রাসেলের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, হামলার পর ঘটনাটি হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছিল। রাসেলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত