Ajker Patrika

সড়ক নিরাপত্তায় ডিএনসিসি ও ব্লুমবার্গের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সড়ক নিরাপত্তায় ডিএনসিসি ও ব্লুমবার্গের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে

রাজধানী ঢাকার সড়কে নিরাপত্তা উন্নয়নে ব্লুমবার্গের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবালের রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় ডিএনসিসির সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত সিটিল্যাব ২০২৬ সম্মেলনে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের প্রতিষ্ঠাতা মাইক ব্লুমবার্গ এই উদ্যোগে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর এ কথা জানিয়েছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকার সড়ক নকশা উন্নয়ন, সংযুক্ত সাইক্লিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, তথ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষভাবে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। বাংলাদেশে এই সংখ্যা ৫ হাজার ৪৯০। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ২ থেকে ৫ কোটি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারান। এসব দুর্ঘটনা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়; বরং দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং গতিনির্ভর নগর-পরিকল্পনার ফল।

‘রোড সেফটি সিচুয়েশন রিপোর্ট ২০২২-২৩’ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ঢাকার সড়কে ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ পথচারী, ২৪ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ রিকশাযাত্রী। নিহতদের বড় অংশের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছর, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনে তুলনায় রাতে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি, এবং বাস ও ট্রাক সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির জন্য দায়ী।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকের বেশি পথচারী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য ফুটপাত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সড়কে প্রাণহানি কমাতে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর ও চট্টগ্রামসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের ৩০টির বেশি শহরে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, ইথিওপিয়া, ভারত, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, উগান্ডা ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন শহর।

প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যা ও প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৯ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস নিয়ে ঢাকা উত্তর বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বাস্তবতায় সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন কেবল নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং নগরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল টিটনের’

অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনে অভিযুক্ত ২৩১১ সার ডিলার: কৃষিমন্ত্রী

রীতি মেনে পেছনের আসনে বসলেন প্রধানমন্ত্রী

শাহজালাল বিমানবন্দর: তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সময় আরও পেছাল

একতরফা বিজয় ঘোষণার পরিকল্পনা ট্রাম্পের, সম্ভাব্য ইরানি প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত