Ajker Patrika

পূজামণ্ডপে বরাদ্দের চাল কম দামে কিনে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৩৭
পূজামণ্ডপে বরাদ্দের চাল কম দামে কিনে নিচ্ছে প্রভাবশালী চক্র
ফাইল ছবি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার ২৩৮টি পূজামণ্ডপে সরকার ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিলেও কম দামে বরাদ্দপত্র কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। পূজারিদের দাবি, আশুলিয়ার মণ্ডপগুলো ৬০০ কেজি চালের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা ও সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের মণ্ডপগুলো ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দপত্র নিয়ে মণ্ডপের প্রতিনিধিদের খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করার কথা।

পূজারিদের অভিযোগ, আশুলিয়ার মণ্ডপের প্রতিনিধিরা খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারেননি। এর আগেই একটি প্রভাবশালী চক্র পূজারিদের কাছ থেকে কম টাকায় চালের বরাদ্দপত্র কিনে নেয়।

সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের প্রায় ১০০ মণ্ডপের চাল এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পূজারিরা। তাঁদের ভাষ্য, আশুলিয়ার মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি চালের বরাদ্দপত্রের বিপরীতে ২০ হাজার টাকা ও সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের মণ্ডপগুলো ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছে।

গত বছর প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা হিসাবে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান পূজারিরা। এ বছর বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হলেও আশুলিয়ার শতাধিক মণ্ডপে ২০ হাজার টাকা করেই দেওয়া হয়েছে। এতে কেজিপ্রতি চালের বিপরীতে তাঁরা পেয়েছেন ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা।

চালের বাজারমূল্য সর্বনিম্ন ৫০ টাকা ধরলেও ৬০০ কেজি চালে ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল বলে দাবি করেছেন পূজারিরা।

সাভার পৌর এলাকাসহ আশপাশের প্রায় ১০০ মণ্ডপের চাল ২১ হাজার ৫০০ টাকা করে কিনে নেওয়া ব্যবসায়ী পূজারিদের অনুরোধে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আশুলিয়ার একাধিক পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেগুলো নিয়ে নেন। পরে প্রতি ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দের বিপরীতে মণ্ডপ প্রতিনিধিদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

ইউএনওর কার্যালয় ভবনের চতুর্থ তলায় পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে বরাদ্দের চাল কেনাবেচা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পূজারি। তাঁদের দাবি, এ সময় পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাভার শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বছর থেকে চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ঢাকা জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্মরণ সাহা। তিনি বলেন, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পূজারিরা কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর সঙ্গে সাভার উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে পূজারিরা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকত না।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাভার থানা কমিটির সভাপতি বরুণ ভৌমিক বলেন, ‘চাল নিয়ে এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি দেখার দায়িত্বও আমার নয়।’

সাভারের ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এসব কাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ভেতরে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে চাল বেচাকেনা চলছিল। আমি বিষয়টি জানার পরে তাঁদের সেখান থেকে বের করে দিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত