Ajker Patrika

পল্টনে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে ছাত্র-যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি
পল্টনে হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে ছাত্র-যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ
শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে হামলার বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অভিমুখে যায়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি দীপক শীলকে থানা থেকে মুক্ত করার পর পুরানা পল্টনে মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে মুক্তি ভবনে অবস্থিত ছাত্র ইউনিয়নের কার্যালয় ও সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও হামলা-ভাঙচুর করা হয়।

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ভূঁইয়া বলেন, দীপক শীলকে থানা থেকে মুক্ত করার পর তাঁরা পল্টন মোড়ে বিজয় মিছিল করছিলেন। এ সময় বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠন ও জামায়াতের লোকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সরকার মব সহিংসতা বন্ধের কথা বললেও রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে হামলার ঘটনা ঘটছে। বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার মব বন্ধ করতে চায়, নাকি মবের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করতে চায়। হামলা চালিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা কিংবা মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা রুদ্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হক বলেন, স্বাধীন দেশে কে কোন স্লোগান দেবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেই। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া যাবে না। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, দীপক শীলের মুক্তির পর পল্টন মোড়ে মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। সে সময় তাঁরা পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পসারীর মরদেহ দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই তাঁদের সমাবেশে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশের সভাপতি ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নুর অভিযোগ, ভিন্নমতের মানুষকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম নান্নু বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, বাক্‌স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে স্লোগান কিংবা সরকারের সমালোচনার কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত না হলে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এর আগে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউলগানসহ সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক হন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল। পরে তাঁর মুক্তির পর পুরানা পল্টনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতাকর্মীরা। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে অভিযোগের পর সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত