
গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণায় সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি কামাল লোহানীর ৯২তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট মিলনায়তনে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত আয়োজনের আলোচনা পর্বে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘কামাল লোহানী তাঁর দীর্ঘ জীবনে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। যুক্তফ্রন্টের অনুকূলে জনমত গঠন করেছেন। পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষে বরীন্দ্রবৈরিতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম করেছেন। ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, গণ-অভ্যুত্থান, নির্বাচন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই ছিল তাঁর যথার্থ ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে রেখেছেন কার্যকর অবদান। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণের সংবাদ নিজে লিখে নিজেই পাঠ করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।’
অমিত রঞ্জন আরও বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন তিনি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়েছেন সাম্যবাদী লড়াইয়ের বীজ। প্রবীণ থেকে তরুণ—সব বয়সী মানুষের সঙ্গেই তিনি বন্ধুর মতো মিশতে পারতেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্যবাদী, অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতেন কামাল লোহানী।’
উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি শিবাণী ভট্টাচার্য বলেন, ‘কামাল লোহানী ছায়ানট, ক্রান্তি—দুই সংগঠনে থেকে নৃত্য করেছেন, আবৃত্তি করেছেন, অভিনয় করেছেন। আবার সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। তিনি আমৃত্যু সংস্কৃতির সঙ্গে এবং সংস্কৃতির সংগ্রামে সোচ্চার থেকেছেন।’
আলোচনা পর্বে অন্য বক্তাদের কথায় উঠে আসে, স্বাধীন বাংলাদেশে সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন কামাল লোহানী। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন, গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনেই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। উদীচীর সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে-কানাচে। একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং অভিভাবক হিসেবে সারা দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কামাল লোহানী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কামাল লোহানীর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের নেতারা। করা হয় প্রদীপ প্রজ্বালন। এরপর ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আসো’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শিখা সেন গুপ্তা এবং উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের আবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক সুমিত পাল। একক সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পী বিজয় বণিক।
এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি শিবাণী ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এই পর্বে আলোচনা করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের প্রয়াত সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের কন্যা সুপা সাদিয়া, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নিবাস দে, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি প্রবীর সরদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সংগঠনবিষয়ক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।
উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘আজি শুভদিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই’ গানটির সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কামাল লোহানীর ৯২তম জন্মদিন উদ্যাপন অনুষ্ঠান।

দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মতো গ্যাস-সংকটে ভুগছে নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ ৬০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। ফলে গত দুই সপ্তাহে নরসিংদীর কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
৩০ মিনিট আগে
আমন মৌসুম শুরু হয়েছে। কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করছেন। বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও চারা রোপণও শুরু হয়েছে। তবে কৃষকেরা সারের দোকানে গিয়ে সার পাচ্ছেন না। ডিলাররা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বিসিআইসি ও বিএডিসি তাঁদেরকে সার সরবরাহ করছে না।
১ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নগরীর পাঁচটি এলাকায় এডিস মশার প্রজনন নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩ পাওয়া গেছে, যেখানে ২০-এর বেশি সূচককে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
নান্দাইল-হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। ভাঙাচোরা আর অপ্রশস্ত সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে তাঁদের।
১ ঘণ্টা আগে