Ajker Patrika

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে দ্রুত গেজেট দাবি সরকারি কর্মচারীদের, অন্যথায় অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১৮: ৪১
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে দ্রুত গেজেট দাবি সরকারি কর্মচারীদের, অন্যথায় অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকার গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল’ বাস্তবায়নে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর ঘোষণা ও সেই লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১২ জুন সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানসহ পরবর্তীতে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায় তারা। এ সময় বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১: ৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

সেই সঙ্গে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ ও গেজেট প্রকাশ না হলে আগামী ১২ জুন সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। সেদিন থেকেই ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন প্ল্যাটফর্মের নেতারা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—১: ৪ অনুপাতে ১২ গ্রেডের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ২০১৫ সালে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, ব্লক পোস্টে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, টেকনিক্যাল পদে কর্মরতদের মর্যাদা নিশ্চিত করা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পেনশন চালু, গ্র্যাচুইটির হার ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচুইটির মূল্য ১ টাকায় ৫০০ টাকা নির্ধারণ।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মো. ছালজার রহমান এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ১১-২০ ফোরামের সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

লিখিত বক্তব্যে মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালে কর্মচারীদের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।’

সভাপতির বক্তব্যে মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘বিগত সরকার ৯ম পে-স্কেল নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার পে-কমিশন গঠন করলেও গেজেট প্রকাশ করেনি। বরাদ্দ রেখে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর দায় চাপানো হয়েছে। নির্বাচিত সরকারও নির্বাচনী অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বর্তমান অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনায় মানবিক কারণে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’

এ ছাড়া বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ, ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিন ছাড়ানোর নামে ২১টি যৌন নিপীড়ন, লন্ডনে বাংলাদেশি ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নারী নৃত্যশিল্পীর আত্মহত্যা, মরদেহ দাফনে বাধা

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১৫ আমল

‘সনাতন ধর্ম নির্মূল করতে হবে’, তামিলনাড়ু বিধানসভায় এমএলএর মন্তব্যে বিতর্ক

ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় শেষে মহাসড়কে ফেলে দিল দুর্বৃত্তরা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত