Ajker Patrika

সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সাবেক রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী হত্যা: ছেলে কারাগারে, গৃহকর্মীর জবানবন্দি
ফাইল ছবি

ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আবুল কাশেমের স্ত্রী আফিয়া আক্তারকে হত্যার মামলায় তাঁর ছেলে তাহসিন তারিক অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় বাসার গৃহকর্মী নার্গিস বেগম সাক্ষী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ অর্ণবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম নার্গিস বেগমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

অর্ণব ও নার্গিস বেগমকে আদালতে হাজির করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্ণবকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পাশাপাশি সাক্ষী হিসেবে নার্গিস বেগমের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানান।

ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শরিফুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে আফিয়া আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তাঁর মেয়ে চিকিৎসক নাহরিন নাশিদ স্বর্ণা বাদী হয়ে ছোট ভাই অর্ণবের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে স্বর্ণা অভিযোগ করেন, অর্ণব কোনো কাজ করতেন না। প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে ঝগড়া করতেন এবং মাকে হত্যার হুমকিও দিতেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসার ম্যানেজার মাহবুব ফোন করে স্বর্ণাকে জানান, দারোয়ানের কাছ থেকে তিনি বাসায় ঝামেলার খবর পেয়েছেন। এরপর স্বর্ণা গৃহকর্মী নার্গিস বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নার্গিস তাঁকে জানান, অর্ণব তাঁর মায়ের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেছেন এবং আফিয়া আক্তার ডাইনিং রুমে পড়ে আছেন।

পরে স্বর্ণা ম্যানেজারকে তাঁর মাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আফিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৃহকর্মী নার্গিসের বরাত দিয়ে এজাহারে আরও বলা হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাবার খেয়ে নিজের শোবার ঘরে ঘুমাতে যান আফিয়া আক্তার। অর্ণবও নিজের ঘরে ছিলেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আফিয়া আক্তারের চিৎকার শুনে ডাইনিং রুমে যান নার্গিস। সেখানে অর্ণবকে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং আফিয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর ধানমন্ডি এলাকা থেকে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন: অর্ণব

আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর অর্ণব আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। ঘটনার দিন ভোরে ডাইনিং রুমে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

অর্ণব বলেন, বাসার নিচের মসজিদের ইমামকে ডেকে আনেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। তবে সেখান থেকে সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

পরে ধানমন্ডির ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পথে পুলিশের টহল গাড়ি দেখতে পান বলে জানান অর্ণব। পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর সদস্যরা তাঁর সঙ্গে বাসায় যান।

ছুরিকাঘাতের পর গৃহকর্মীকে কাছে যেতে বাধা দেন অর্ণব

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গৃহকর্মী নার্গিস বলেন, ভোরে অর্ণব তাঁর মা আফিয়া আক্তারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে আফিয়া আক্তারের কাছে যেতে চাইলে অর্ণব তাঁকে বাধা দেন। এ সময় অর্ণবের হাতে ছুরি ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নার্গিস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত