Ajker Patrika

ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছিল: সংস্কৃতিমন্ত্রী

জবি প্রতিনিধি‎‎
ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছিল: সংস্কৃতিমন্ত্রী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল। যার ফলে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একটি দেশের ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল।

আজ বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সংগীত বিভাগের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ঝুমুর আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুর রহমান।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক খাত নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করতে হবে। আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। সমতল, পাহাড়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থান দেশের সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘নজরুল (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম) সাধারণ ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেও তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, বিদ্রোহী চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবন, আত্মমর্যাদাবোধ এবং শোষণবিরোধী অবস্থান আজও সমাজকে অনুপ্রাণিত করে। নজরুলের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতার জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর প্রতি বিশেষ স্নেহ ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গভীর মানবতাবোধসম্পন্ন একজন বিশ্বকবি, যিনি মানুষের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে কেন্দ্র করে যৌথ উৎসবের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সময়ে তা কাটিয়ে ওঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান অবিস্মরণীয়। তবে বিভিন্ন সময়ে রবীন্দ্রচর্চা অব্যাহত থাকলেও নজরুলচর্চা তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাগরণের কবি, আস্থার কবি এবং অস্তিত্বের কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির মুক্তি, সাম্য, মানবতা এবং প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার বলেন, ‘সংগীত চর্চা কেবল শাস্ত্রীয় বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর আবেদন সর্বস্তরের মানুষের কাছে রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ একাধারে কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার ও সমাজসংস্কারক ছিলেন এবং তাঁর পল্লি উন্নয়ন ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক। একইভাবে নজরুল সমাজ উন্নয়ন, শান্তি ও আত্মনির্ভরশীলতার চেতনা ধারণ করে সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইফ্ফাত আরা দেওয়ানকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন খ্যাতিমান শিল্পী বুলবুল ইসলাম, শামা রহমান এবং জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া ‘শ্যামল সুন্দর’ পরিবেশন করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ। ‘নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা’ যৌথভাবে পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ, ধৃতি নর্তনালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত