Ajker Patrika

বাহাউদ্দিনের সাহস থাকলে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হোক: পিপি কাইমুল হক রিংকু

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
বাহাউদ্দিনের সাহস থাকলে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হোক: পিপি কাইমুল হক রিংকু
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেছেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাহস থাকলে তাঁকে দেশে এসে আইনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে হবে।

আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লার উদ্যোগে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির হলরুমে এক প্রতিবাদ সভায় কাইমুল হক রিংকু এ কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘বাহার আমাদের দল ও নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন, হুমকি দিয়েছেন এবং বিচারব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি তাঁর বাড়িতে কারা অগ্নিসংযোগ করেছে, সে বিষয়ে নিজের মতো করে তালিকা প্রকাশ করেছেন এবং একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘বাহার সাহেব দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথা বলছেন। আমরা মনে করি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে তাঁকে দেশে এসে প্রচলিত আইনের মুখোমুখি হতে হবে। জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি শুধু নন, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশে ফিরতে হবে।’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে কুমিল্লা জেলার পিপি বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, গুলি করেছে, মানুষকে পঙ্গু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের মানুষ শান্ত হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।

বাহাউদ্দিন বাহারের বিভিন্ন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা আমি করেছি। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অপকর্ম, দখলবাজি, নির্যাতন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করুন।’

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে কাইমুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমাকে ও আমার বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। তবু আমরা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করি, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী এবং তারেক রহমান আমাদের নেতা। আমরা আমাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে কখনো সরে দাঁড়াব না।’

কুমিল্লা জেলার পিপি আরও বলেন, ভোটবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় থেকে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এখন আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এসব বিশ্বাস করে না।

বাহাউদ্দিন বাহারের উদ্দেশে কাইমুল হক বলেন, ‘আপনি যদি আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং হুমকি অব্যাহত রাখেন, তাহলে ভবিষ্যতে আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হায়াত খান, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মানিক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামান জসিম, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মুমিনুল হক ভূঁইয়া, আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম এ মতিন মোল্লা, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইকরাম হোসেনসহ কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী ও নেতারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত