Ajker Patrika

হোয়াটসঅ্যাপে ‘তোমাকে হারাতে চাই না’ লিখে কিশোরীর আত্মহনন

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
হোয়াটসঅ্যাপে ‘তোমাকে হারাতে চাই না’ লিখে কিশোরীর আত্মহনন
নিহত আফরিন আক্তার এবং প্রেমিককে পাঠানো সেই খুদে বার্তা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘সানি, আমি জানি আমাকে কখনো ক্ষমা করবা না, তারপরও বলি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কখনো ভাবিনি এমন একটা সময় আসবে, যে সময়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলব। কিন্তু আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে চাইব। আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না। আমি অনেক ভালোবাসি তোমায়... হয়তো আজ আমার শেষ নিঃশ্বাসটাও কেউ দেখবে না। আমাদের আর কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাখি, বাই।’

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেমিককে এমন আবেগঘন মেসেজ পাঠানোর পর আফরিন আক্তার (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ওই বার্তার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আফরিন উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর পর গত ১০ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেবিদ্বার সদরের মোল্লা বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকত সে।

গত সোমবার বেলা ২টার দিকে দেবিদ্বার পৌরসভার মেল্লাবাড়ী মসজিদসংলগ্ন খান মঞ্জিলের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আফরিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া ও বড়শালঘর গ্রামের জামসেদ মিয়ার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন সানির (২৬) সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পেশায় ক্যামেরাম্যান সানির সঙ্গে মেয়ের এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা মরিয়ম বেগম। তাঁর অভিযোগ, সানি বিভিন্নভাবে আফরিনকে উত্ত্যক্ত করতেন।

গত রোববার দুই পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিককে নিয়ে সালিসি বৈঠক হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে মরিয়ম বেগম মেয়েকে বাসায় একা রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান।

সোমবার সৌদি আরব থেকে ছেলে আজাদের ফোন পেয়ে দুপুরে বাসায় ফেরেন মরিয়ম বেগম। বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে স্থানীয় ও কারিগরদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তিনি। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আফরিনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

আফরিনের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘সানি আমার মেয়েকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমার মেয়ের এই অকাল মৃত্যুর জন্য সানিই সম্পূর্ণ দায়ী। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পারিবারিক মনোমালিন্য এবং প্রেমের সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত