Ajker Patrika

তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচলেন না প্রসূতি পপি, মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ০৬
তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচলেন না প্রসূতি পপি, মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও
ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার সকালে নিহতের মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত প্রসূতির নাম পপি আক্তার (২১)। তিনি উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের টাকই অহিদ সরকার বাড়ির মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী।

নিহতের স্বজনেরা জানান, ৪ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা উঠলে পপি আক্তারকে উপজেলা সদরের আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালটি আগে ভিশন হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর সন্তান প্রসব করান। ৭ সেপ্টেম্বর পপি ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকে পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি আবার আল বারাকা হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁকে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে পপির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনেরা জানান, সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

অস্ত্রোপচারের পর পপিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় তাঁকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে পপি আক্তারের মৃত্যু হয়।

পরে ওই হাসপাতাল থেকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী আল বারাকা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেয়।

স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে পপির মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, আল বারাকা হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে পপি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, আল বারাকা হাসপাতালে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত