Ajker Patrika

সান্তাহারে রিকাশা-ভ্যানের লাইসেন্সের নামে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ১১
সান্তাহারে রিকাশা-ভ্যানের লাইসেন্সের নামে টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২
দুই চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের পৌর লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে সাতটি অনুমোদনবিহীন লাইসেন্স, সাতটি মালিক লাইসেন্স বই ও নয়টি চালক লাইসেন্স বই জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সান্তাহার রেলওয়ে গেটের পশ্চিম পাশে বাঁধন কোন ফ্যাক্স দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন আদমদীঘি উপজেলার বড় টিকরী পৌতা গ্রামের মো. হাফিজুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৭) এবং হলুদঘর গ্রামের মৃত আসতুল সরদারের ছেলে আলম হোসেন (৫৬)।

এ ঘটনায় সান্তাহার সাইলো রোড এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন খন্দকার (৫২) বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বেলাল হোসেনের শ্বশুর ফারুক সরদার (৭০) ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান। ঘটনার সময় তিনি সান্তাহার রেলগেটের পশ্চিম পাশে অবস্থান করছিলেন। সেখানে রবিউল ইসলাম তাঁর ভ্যান আটকে পৌরসভার লাইসেন্সের কথা বলে ৭০০ টাকা দাবি করেন।

এজাহারে বলা হয়, টাকা না দিলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার ভয় দেখানো হয়। পরে বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউল ইসলামের কাছে টাকা আদায়ের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় রবিউল ইসলাম তাঁকে ভয়ভীতি দেখান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ ও টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি আলম হোসেনের কাছ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করে অটোরিকশা ও ভ্যানের মালিক-চালকদেরকে সরবরাহ করেন।

স্থানীয়রা পরে রবিউল ইসলামকে আটক করে তাঁর সহযোগী আলম হোসেনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। আলম হোসেন ঘটনাস্থলে আসার পর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

বেলাল হোসেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ রবিউল ইসলামের কাছ থেকে লাইসেন্স ও লাইসেন্স বইগুলো জব্দ করে এবং রবিউল ইসলাম ও আলম হোসেনকে হেফাজতে নেয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার দুজন ও অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন যোগসাজশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানের মালিক-চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা করে আদায় করে আসছিলেন।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর আজ দুপুরে তাঁদের বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত