Ajker Patrika

টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারের লোভেই ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তা

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৪১
টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারের লোভেই ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তা
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ও ঘাতক লাইলী আক্তার । ছবি: সংগৃহীত

টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারের লোভই কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সাগর বড়ুয়া। বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের পঞ্চম দিনে ঘাতক লাইলী আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত পাঁচ দিনে ১৪টি পলিব্যাগে ভর্তি ফরিদা ইয়াসমিনের প্রায় অর্ধশত খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ রয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দা, নিহতের পরনের স্বর্ণালংকার-একটি গলার চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও একটি আংটি—এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে কাঠের গুঁড়ির ওপর রেখে দা দিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ খণ্ডিত করা হয়েছিল, সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, ফরিদা ইয়াসমিনের ঘরের আলমারিতে থাকা সাত লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং ১০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসব অর্থ ও স্বর্ণালংকারের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তার ধারণা, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সহযোগীরা এসব টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করা গেলে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

পুলিশ জানায়, ফরিদা ইয়াসমিনকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাইলী আক্তার মরদেহ বাথরুমে নিয়ে দা দিয়ে টুকরো টুকরো করেন। পরে খণ্ডিত দেহাংশ পলিব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নিহতের মাথার অংশ একটি ব্যাগে ভরে সকালে স্বাভাবিকভাবে বাসার অদূরে একটি ডোবার ঝোপে ফেলে আসেন লাইলী।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সাগর বড়ুয়া বলেন, লাইলী আক্তার যাদের নাম বলেছেন, তাদের একজন প্রবাসে রয়েছেন, আরেকজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। বাকি দুজনের মধ্যে কাউকে আটক করা গেলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য আরও পরিষ্কার হবে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘লাইলী খুবই ধুরন্ধর। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারপরও তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

আটক লাইলী আক্তার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে পরকীয়ার জেরে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন লাইলী। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে বের হন তিনি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আলোচিত ফরিদা হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে লাইলী আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে পলিব্যাগে ভর্তি ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত