Ajker Patrika

গরমে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ

মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) 
গরমে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ
ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় হঠাৎ প্রচণ্ড গরমের প্রভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, বয়স্কসহ অসংখ্য রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মানবদেহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা বাড়ছে, বিশেষ করে পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, কলেরা ও জন্ডিস। এই পরিস্থিতি এড়াতে বিশুদ্ধ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। এ ছাড়া পেটব্যথা, বমি, ঠান্ডা-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে জরুরি ও বহির্বিভাগে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষ।

দুলালপুর গ্রামের আট মাস বয়সী শিশু রিফাত রাফি তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। তার মা জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।

একইভাবে তিন বছর বয়সী সুমাইয়া জান্নাতও দুই দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন। বর্তমানে মেয়ের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’

দুই বছর বয়সী আনিকা আঞ্জুমের মা তানজিনা আক্তার জানান, হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে এবং শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দূষিত পানি পান, বাসি বা খোলা খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এই রোগ ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিবুর রেজা আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং রোগীকে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইনের মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত