Ajker Patrika

টেকনাফে ব্যবসায়ী অপহরণ: মুক্তিপণে পেলেন মুক্তি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
টেকনাফে ব্যবসায়ী অপহরণ: মুক্তিপণে পেলেন মুক্তি
ব্যবসায়ী মো. এনাম। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় তাঁকে ছেড়ে দেয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি টেকনাফে বাড়িতে পৌঁছান।

আজ দুপুর ২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. আমিন। ভুক্তভোগী মো. এনাম (২১) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লেংগুরবিল আদর্শ গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং জহির আহমদের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে দুই ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এনামের মুদির দোকানে এসে তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

মো. আমিন জানান, অপহরণকারীরা তাঁর ভাইকে টেকনাফ থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর মুখ স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে গাড়ির পেছনের অংশে শুইয়ে রাখা হয়। পরে ঢাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি স্থানে দুই দিন আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মো. আমিন বলেন, “অপহরণকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আমার ভাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত খরচ পাঠালে আজ সকালে তিনি টেকনাফে ফিরে আসেন।”

পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা এনামকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মুক্তিপণ দেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি। কারণ, অপহরণকারীরা হুমকি দিয়েছিল, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

মো. আমিন অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কারো সঙ্গে আর্থিক বিরোধ ছিল না। টেকনাফ থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে এত চেকপোস্ট থাকার পরও কীভাবে তাঁকে নেওয়া হলো, তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে। তবে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আসার বিষয়টি আমাদের অবগত করা হয়নি।”

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত