Ajker Patrika

প্রতিবেশীর নলকূপের পানি নেওয়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   
প্রতিবেশীর নলকূপের পানি নেওয়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
নিহত ইউসুফ আলী। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় প্রতিবেশীর নলকূপ থেকে পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

নিহত ব্যক্তির নাম ইউসুফ আলী (৭০)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।

গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের আলিম্যারঝিরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বিকেলে ইউসুফ আলীর পুত্রবধূ কলি আক্তার প্রতিবেশী নুরুল কাদেরের নলকূপ থেকে পানি আনতে যান। এ সময় নুরুল কাদেরের মেয়ে ফাহিমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরে ইউসুফ ও তাঁর মেয়ে দিলুয়ারা এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এতে ইউসুফ গুরুতর আহত হন।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেন নুরুল। প্রস্তাবে রাজি হয়ে ইউসুফ চিকিৎসার জন্য পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে দ্বিতীয় দফা হামলা চালায় নুরুল কাদের ও তাঁর ছেলে আকাশ। তাঁরা ইউসুফকে পাকা সড়কের ওপর আছড়ে ফেলে দিলে তিনি জ্ঞান হারান।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ইউসুফের স্ত্রী ছেনু আরা বেগম বলেন, ‘নলকূপের পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলের বউয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুরো পরিবার এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। মীমাংসার প্রস্তাবে রাজি হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে নুরুলেরা দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়।’

ইউসুফের পুত্রবধূ কলি আক্তার বলেন, ‘নলকূপ থেকে আমি ও আমার ননদ পানি আনতে যাই। সেখানে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করি কিন্তু ফাহিম হাসিঠাট্টা করে কিছুতেই পানি নিতে দিচ্ছিল না। কলসিতে পানি নেওয়ার পর বালু ও হাত ঢুকিয়ে দেয়। প্রতিবাদ করতেই ফাহিম আমার চুলের মুঠি ধরে মারধর করে। এরপর শ্বশুরসহ কয়েকজন এগিয়ে গেলে তারা একযোগে হামলা চালায় আমাদের ওপর। এরপর চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় দফা হামলা করে আমার শ্বশুরকে খুন করে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে দোষীদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত