Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৩

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৩
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ওই গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

জামায়াতের অভিযোগ, রোববার দুপুরে জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির সমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। একপর্যায়ে নারীদের ওপর হামলাও চালানো হয়।

বিএনপির দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এমনকি তাঁরা কোরআন শরিফ ছুঁইয়ে শপথ করান। বিষয়টি জানতে পেরে ওই নারীদের কাছে সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা জামায়াতের পুরুষ কর্মীদের ডেকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। বহিরাগত লোকজন এসে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে দফায় দফায় হামলা চালায়।

বিএনপির আহত কর্মী আরাফাত আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে বাইরে থেকে অনেক মহিলা এসেছিল কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে। এসে তারা নগদ টাকা দিচ্ছিল দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য। আবার বিকাশ নম্বর ও নিচ্ছিল বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য। কোরআন শরিফ ছুঁয়ে কসমও কাটাচ্ছিল ভোট দেওয়ার জন্য। তখন গ্রাসবাসী ও আমরা যারা বিএনপির সমর্থক আছি, মিলে তাদের এমন করতে নিষেধ করায় আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে।’

এ ঘটনায় জামায়াতের নেতা রাসেল পারভেজকে দায়ী করে আরাফাত আলী অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা কুড়াল, চায়নিজ কুড়ালসহ অনেক অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। আমরা পুলিশের থেকেও সাহায্য পাইনি। ঘটনাস্থলে কমলাপুর ফাঁড়ির পুলিশ ছিল, কিন্তু তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে।’

আহত নেতা-কর্মীদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন থেকেই জামায়াতের হিংস্র ও মারমুখী মনোভাব আমরা লক্ষ করেছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের তৃণমূল নেতা অবধি সতর্ক করা আছে যে ওরা এমন মারমুখী হিংস্র মনোভাবে আছে, আমরা যেন কোনোভাবেই কোনো ঝামেলাতে না জড়াই। তবুও আজকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেই গেল।’

শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘আজকে যারা ভোট চাইতে গেছে—তারা আমাদের এলাকারই না, তারা মেহেরপুরের। তারা গিয়ে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করাচ্ছে, টাকা দিচ্ছে—এমন পর্যায়ে এলাকার লোকজন এগুলোর বিরোধিতা করেন। তারপর ওই মহিলারা ফোন করার কয়েক মিনিটের ভেতর উপজেলার আমির দারুস সালামসহ মূল মূল কয়েকজন নেতা লাঠি, রডসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠের শান্ত পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করা হচ্ছে। জামায়াতের অতর্কিত হামলায় নারীসহ বিএনপির আটজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

অপর দিকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের বারবার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির হামলায় জামায়াতের নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আলমডাঙ্গার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিত স্বাভাবিক আছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিল পরিবার: বাগেরহাটের ডিসি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ কর্মী নেবে আরএফএল, বেতন ৪০ হাজার টাকা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শ্রমিক দল নেতার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল

‘গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি’

‘পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ থাকবে না’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত