চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে আলমডাঙ্গার আলোচিত ঝন্টু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে ঘটনার ১৭ বছর পর এবং অপর একটি মাদক মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকেরা পৃথক রায়ে এ দণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঝন্টু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬০) এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৬২)। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নেওয়া হয় ঝন্টুকে। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঝন্টুর বাবা আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে, মাদক মামলায় আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে শফিউল্লাহকে (৬০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা জজ) শিমুল কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ অ্যাম্পুল বা ৪৪ মিলিলিটার বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে এবং এর বিস্তার রোধে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









