Ajker Patrika

ছোট্ট ফাতেমার হার্টে ছিদ্র, অর্থাভাবে থেমে আছে চিকিৎসা

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
ছোট্ট ফাতেমার হার্টে ছিদ্র, অর্থাভাবে থেমে আছে চিকিৎসা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাতেমা আক্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা

যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটছে ১১ বছরের ফাতেমা আক্তারের। তার হৃদ্‌যন্ত্রে ধরা পড়েছে বড় আকারের ছিদ্র। চিকিৎসকেরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়েকে সেই চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা বশির উদ্দিন। মেয়েকে নিয়ে এখন তিনি মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার হাজীপাড়া এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকে ফাতেমা। তার বাবা বশির উদ্দিন পেশায় রংমিস্ত্রি। তবে নিজেও হৃদ্‌যন্ত্রে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। দুইবার স্ট্রোকও করেছেন তিনি। জায়গা-জমি নেই, সংসার চলে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আজ শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসাধীন মেয়ের পাশে বসে আছেন বশির উদ্দিন। চোখেমুখে উদ্বেগ, মেয়েকে বাঁচানোর আকুতি।

বশির উদ্দিন জানান, জন্মের পরপরই ২০১৬ সালে ফাতেমার হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসকেরা নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওষুধেই ছিদ্র বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু অর্থসংকটে মেয়ের ওষুধ নিয়মিত চালাতে পারেননি তিনি।

বশির উদ্দিন বলেন, ‘অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে ফাতেমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার হার্টের ছিদ্র বড় হয়েছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করাতে বলেন। কিন্তু আমার কাছে সেই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার মতো কোনো অর্থ নেই। তাই মেয়েকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি।’

বশির উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি নিজেও হার্টের রোগী। দুইবার স্ট্রোক করেছি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ফাতেমা মেঝ। বড় মেয়ে স্বামীর সংসারে। ঘরে স্ত্রী, ফাতেমা আর ছোট ছেলে। রংমিস্ত্রির কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারি না। মেয়েকে বাঁচাতে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইছি।’

মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পার্বন চাকমা বলেন, ‘এখানে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসক নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফাতেমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু অর্থসংকটে অভিভাবক তাকে সেখানে নিতে পারছেন না। ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় তার হার্টে বড় ছিদ্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আপাতত চমেক হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী সকাল ও বিকেলে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। তাকে খুব দ্রুত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা জরুরি।’

ফাতেমার চিকিৎসার জন্য দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মেয়েকে বাঁচাতে সবার কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন বশির উদ্দিন। তাঁর নগদ: ০১৮৯৩১৩৩৯১৭ ও বিকাশ: ০১৭৭৮৬৫২৪৭২ নম্বরে পাঠানো যাবে আর্থিক সহায়তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত