Ajker Patrika

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর: এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৯: ৩১
ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর: এসআইসহ ২ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের ফরিদারপাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের পৈতৃক বাসায় পুলিশ কমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সিএমপি কমিশনার বলেন, ইতিমধ্যে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এর আগে তিনি নাঈমের বাবা মাহাবুব আলম ওরফে মাহাবুব কমিশনার ও ভাইদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

সিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিশনার আরও বলেন, কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। যার দায় তাকেই নিতে হবে। জড়িত ব্যক্তিদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে নগরের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে নাঈমকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামায় খুলশী থানা-পুলিশের একটি টহল টিম। এ সময় তাঁকে সিএনজি থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠে। এরপর রাতেই তাঁকে থানায় নেওয়া হয়।

ঘটনার পর রাতেই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে সোহেল নামের পুলিশের এক সোর্সের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা হয়।

নাঈমের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ম্যাচ খেলে রাত ১০টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন নাঈম। রাতে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের একটি গাড়ি তাঁদের বহন করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার পথরোধ করে। পরে অটোরিকশা থেকে নাঈমকে নামিয়ে পেটানো হয়।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান শনিবার সকালে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিতে চোরাচালানের মালপত্র রয়েছে—একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া এমন খবরে আমাদের একটি টহল টিম লালখানবাজারে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তল্লাশি করে। এই ধরনের তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন হলেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

ওসি বলেন, ‘পরে আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসারের উপস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িত এসআই শফিকুলসহ পুলিশের তিনজনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে থাকা সোহেল নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে।’

শনিবার দুপুরে নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার (সদর) আমিনুর রশীদ জানান, ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়ায় জড়িত খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে থানায় ধরে নেওয়ার ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিশেষ করে হেনস্তার শিকার হয়ে ক্রিকেটার নাঈম কান্নায় ভেঙে পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনার সময় নাঈম সাংবাদিকদের জানান, গাড়ি থামাতেই কয়েকজন পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন, পরিচয়পত্রও দেখান। তবু তাঁকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদাপোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে তাঁকে পেটান। মারধরের সময় তাঁরা বলছিলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’ থানায় নিয়ে গেলে ওসির কক্ষেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নাঈম হাসান।

জানা গেছে, মধ্যরাতে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে হাজির হন তাঁর আত্মীয়স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। থানায় ছুটে আসেন ডিসি আমিরুল ইসলামও। এ সময় ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত