Ajker Patrika

রানওয়েতে দেড় মাসে ৯ বার চুরি

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
রানওয়েতে দেড় মাসে ৯ বার চুরি

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে দেড় মাসে ৯ বার চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার কেব্‌ল চুরি গেছে। এ ছাড়া রানওয়ে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড কেব্‌ল, রানওয়ের লাইট, লাইটের ফেজ ও লুপিং নিয়ে গেছে চোরেরা। রানওয়ের বাইরে থেকে ওভারহেড কেব্‌লও চুরি হয়ে যাচ্ছে।

একের পর এক যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনায় যেকোনো সময় রানওয়ের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হতে পারে। এতে বিমান ওঠানামায় প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কেব্‌ল কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভিওআর (ভয়েস ওভার রেটিং) এলাকায় অনেক সময় বিমানের ক্যাপ্টেনের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সংকেত আদান-প্রদান বিঘ্নিত হয়। রানওয়ের খুব কাছে মসজিদ গেটটি প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রানওয়েতে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঘটতে পারে বলেও শঙ্কা একাধিক কর্মকর্তার। বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একেবারে স্পর্শকাতর স্থানে চুরির ঘটনায় তাঁরাও বিস্মিত। কেননা মাটি খুঁড়ে প্রায় চার ফুট নিচে থেকে চোরের দল কেব্‌ল নিয়ে গেছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট রাতে রানওয়ের ০৫ এন্ড প্রান্তে একটি ট্রান্সফরমারসহ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায় চোরের দল। এ ছাড়া রানওয়ের আন্ডারগ্রাউন্ড কেব্‌ল, রানওয়ে লাইট, রানওয়ে লাইটের ফেজ ও লুপিংও নিয়ে যায়। ২ সেপ্টেম্বর রাতে রানওয়ের কার্গো ওয়্যারহাউসের পশ্চিম সীমানা থেকে ০৫ এন্ড পর্যন্ত সিকিউরিটি লাইটের আধা কিলোমিটার কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা অন্ধকার হয়ে যায়। এ দিন ভিওআর (ভয়েস ওভার রেটিং) এলাকার বৈদ্যুতিক মালামাল চুরির কারণে অন্ধকার হয়ে যায়। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকার দুটি ট্রান্সফরমারসহ অ্যাপ্রোচ লাইটের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর রানওয়ের ২৩ এলাকার তিনটি ট্রান্সফরমারসহ প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। ১৩ সেপ্টেম্বর ২৩ এলাকার এন্ডে (বোট ক্লাবের কাছে) ছয়টি ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্রোচ লাইটের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কিট কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ২৩ এলাকার পাঁচটি ট্রান্সফরমারসহ কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। ৬ অক্টোবর রানওয়ের ২৩ এলাকা থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমারসহ কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর রাতে রানওয়ের ২৩ এলাকা থেকে তিনটি ট্রান্সফরমারসহ কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়।

এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বেসরকারি একটি এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন সুলতান আহাম্মেদ বলেন, রানওয়ের বিদ্যুৎব্যবস্থা খারাপ হলে বিশেষ করে রাতে আলো না থাকলে বিমান অবতরণ সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বৃষ্টি বা কুয়াশার সময় পর্যাপ্ত আলো না থাকলেও বিমান অবতরণ সম্ভব হয় না। বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক জিয়া উদ্দিন ৯টি চুরির ঘটনা শোনেননি বলে দাবি করেন। তবে ২টি চুরির ঘটনা শুনেছেন এবং তা সমাধান হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এর কিছুদিন আগে জাপানি গেটে তিন বাহিনীর (বিমান, আনসার ও সিভিল এভিয়েশন) তিনজন লোক ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থাকা অবস্থায় ৪০ গজ দূরে বিজিবি হ্যাঙ্গারের কাছ থেকে কেব্‌ল কেটে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যারোনেসের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান জানান, রানওয়ে এলাকায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরির বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শাহ আমানতে দফায় দফায় চুরি প্রসঙ্গে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ আলী বলেন, ‘শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের রানওয়েতে চুরির বিষয়ে আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তাই আমরা নিয়মিত টহল জোরদার করি।’ তিনি জানান, বিমানবন্দর একটি কেপিআইভুক্ত এলাকা। এখানে বিমানবন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে।

শাহ আমানতের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারেক জিয়া উদ্দিন বলেন, বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৬৩৫ জনবল রয়েছে। এর মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীতে রয়েছে ১৫০ জন, আনসার ২০০, এপিবিএন ১০৫ এবং বিমানবাহিনীর সদস্য আছেন ১৮০ জন।

নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরির ঘটনার বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার (সিকিউরিটি) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিধানে আরও ৬০ জন আনসার দেওয়া হবে। আগামীকাল শুক্রবার তিনি নিজে সার্বিক বিষয় জানতে স্বশরীরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসবেন বলে জানান।

শাহ আমানতে দফায় দফায় চুরি প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেন বলেন, রানওয়েতে চুরি হয়নি। রানওয়ের পাশে বোট ক্লাবের কাছে দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বৃষ্টির সময় ঘাসগুলো বড় হয়ে গিয়েছিল, সেখানেই চুরি হয়েছে। সেখানে ঘাসগুলো পরিষ্কার করে দুটি আনসার ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত