
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মধ্যে। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি অর্ধেকের বেশি। এতে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী টিনশেডে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় প্রকল্পের (এমডিএসপি) আওতায় বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কথা ছিল। প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবনের বিদ্যালয়-কাম দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ নির্মাণকাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২৪ মাস। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই থেকে তিন দফা সময় বাড়িয়েও তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চলমান কার্যাদেশ বাতিলের পর পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে নতুন করে কবে নির্মাণকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, পুরোনো ভবন ২০১৯ সালে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের জমিদাতার বাড়ির আঙিনায় বেড়া দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী টিনশেড ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মধ্যে টিনশেড ঘরে শিশুদের পড়ালেখায় মনোযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মোস্তফা এরশাদ বলেন, ভবন ভাঙার পর থেকে টিনশেডে ক্লাস নিচ্ছি। শতাধিক শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অস্থায়ী টিনশেডে পাঠদান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। অফিসের আসবাব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না। তিনি আরও বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ভোগের বিষয়টি জানানো হলেও কার্যত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজে চরম অবহেলা দেখিয়েছে।
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে উন্মুক্ত রডে মরিচা ধরেছে। নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে জন্মেছে আগাছা। অবহেলায় পড়ে থাকা প্রকল্পটির এমন বেহাল দশা যে ভবনের চারপাশে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ছিলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ওঠে। কিন্তু নির্মাণাধীন সাইক্লোন শেল্টারের কাজ শেষ না হওয়ায় সেটি কোনো কাজে আসেনি। আশ্রয়কেন্দ্রটি চালু থাকলে দুর্যোগকালে মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না বলে জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ ছাড়া অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষের মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটির পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ এবং নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিনশেডে পাঠদান করতে হচ্ছে এবং দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা পাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ আবার শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা সেখান থেকে যশোর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। যশোর নেওয়ার পথে সাতমাইল এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
৯ মিনিট আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের রামরাইল বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১৩ মিনিট আগে
নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাবেক স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
গত মঙ্গলবার সকালে মদন উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আল আক্কাসের জানাজায় অংশ নিতে যান শামসুল হক চ্যাম্পিয়ন। তিনি মোটরসাইকেলটি কবরস্থানের৷ পাশে রেখে জানাজায় অংশ নেন। ঘণ্টাখানেক পর নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, তার কালো ও নীল রঙের পালসার ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি সেখানে নেই।
১ ঘণ্টা আগে