Ajker Patrika

রাবির সিনেট এক দশক অকার্যকর

  • স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিনির্ধারণীর সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেট।
  • সিনেটের সর্বশেষ অধিবেশন বসে ২০১৬ সালের ১৯ মে।
  • এর আগেও ২০০১ সালে সিনেট অধিবেশনের পর কার্যক্রম বন্ধ থাকে ১৪ বছর।
দীন ইসলাম, রাবি
রাবির সিনেট এক দশক অকার্যকর
ছবি: সংগৃহীত

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিনির্ধারণীর সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেট। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে অকার্যকর রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান প্রশাসনিক ও নীতনির্ধারণী এ পরিষদ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বছরে অন্তত একবার সিনেট অধিবেশন হওয়ার কথা থাকলেও রাবিতে গত ১০ বছরে একবারও তা হয়নি। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন ২০তম সিনেট অধিবেশনের পর এর কার্যক্রম বন্ধ থাকে ১৪ বছর। পরে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম সিনেট অধিবেশনের মাধ্যমে এ অচলায়তন ভাঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মুহাম্মদ মিজানউদ্দীন। তাঁর সভাপতিত্বে ২০১৬ সালের ১৯ মে সর্বশেষ অর্থাৎ ২২তম অধিবেশন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, উপাচার্য বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা ডাকবেন। অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী, সিনেটের সদস্য হবেন ১০৫ জন। উপাচার্য পদাধিকারবলে সভাপতি, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ সদস্য এবং রেজিস্ট্রার হবেন সচিব। এ ছাড়া সরকারের মনোনীত সদস্য ৫ জন, স্পিকারের মনোনীত সংসদ সদস্য ৫ জন, চ্যান্সেলরের মনোনীত শিক্ষাবিদ ৫ জন, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ৫ জন, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত কলেজ অধ্যক্ষ ৫ জন, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত কলেজ শিক্ষক ১০ জন, বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ২ জন, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েটদের ভোটে নির্বাচিত সদস্য ২৫ জন, শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ৩৩ জন এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ৫ জন দায়িত্ব পালন করেন।

উপাচার্য নির্বাচন, বাজেট অনুমোদন, আইন সংশোধন, নতুন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চালুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা এই ফোরামে। দীর্ঘদিন ধরে সিনেট অকার্যকর থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সিনেটের মাধ্যমে অনুমোদিত হওয়া উচিত। তবে বর্তমানে বিকল্প প্রক্রিয়ায়ও কিছু সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে। সিনেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত থাকে এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।’

সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে সিনেট অধিবেশনের দাবি জানিয়ে এলেও তারা শুধু আশ্বাস ও অজুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে। এই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেব।’

এদিকে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। তাঁর দায়িত্বকালীন রাকসু ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিনেট কার্যকর না হওয়া সম্পর্কে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘যাঁরা সিনেটের সদস্য ছিলেন, তাঁদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সিনেট কার্যত অকার্যকর থাকায় সদস্যদের সন্ধান করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, সিনেট কার্যকর করার পেছনে কোনো জটিলতা নেই। প্রশাসন চাইলেই কার্যকর করতে পারে।

রাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, সিনেট সচল করতে হলে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ক্যাটাগরিতে নতুন নির্বাচন দিয়ে নতুন সদস্য নির্বাচিত করতে হবে। এ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে নতুন প্রশাসন বসল, ১৭ মাসে তারা ফিল করল না যে সিনেট বসানো উচিত? কেন করল না? আমার প্রশাসন মাত্র আড়াই মাস তিন মাস হলো। আমরা অবশ্যই চিন্তাভাবনা করছি সিনেটকে কার্যকর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই ফোরামের মাধ্যমেই নেওয়া হোক। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘আমরা মাত্র দেড় বছর দায়িত্বে ছিলাম। এর আগে দীর্ঘ ১৫ বছর কী হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান যারা দায়িত্বে আছে, তারা তো চার বছর থাকবে। তারা করুক। এ বিষয়ে আমাদের দায়ী করা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত