যৌথ মহড়া দিতে চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ‘ইউএসএস ওয়ারিয়র’। পাঁচ দিনের সফরে আসা জাহাজটি আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ক্যারাট-২০২৬’ যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, পেশাগত দক্ষতা ও সমুদ্র নিরাপত্তায় যৌথ সক্ষমতা বাড়ানো এ মহড়ার মূল লক্ষ্য।
আজ রবিবার দুপুরে ৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের মার্কিন জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এর অধিনায়ক হিসেবে আছেন মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেরি সেনুইত। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রামের অধিনায়কের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মীর মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান মার্কিন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাটাশে এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী সামরিক রীতিতে বাদ্য পরিবেশনের মাধ্যমে জাহাজটিকে বরণ করে নেয়।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে জাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মেরি সেনোইট, হেড অব ডেলিগেশন ক্যাপ্টেন স্টিফেন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফ্লিটের রিয়ার অ্যাডমিরাল মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এ সময় দুই দেশের নৌবাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।

আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রামে স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিকসের (এসএমডব্লিউটি) অডিটোরিয়ামে ক্যারাট-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এতে দুই দেশের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ওয়ারিয়র, পি-৮এ উড়োজাহাজ এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ, ঘাঁটি, কমডোর স্কোয়াডস কমান্ডের বিভিন্ন ইউনিট ও নেভাল এভিয়েশন অংশ নেবে।
মহড়ায় দুই দেশের নৌসদস্যদের মধ্যে পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পারস্পরিক সমন্বয় এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও থাকবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর মধ্যে ক্যারাট একটি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনী যৌথ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পায়। ক্যারাট-২০২৬-এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের নৌবাহিনীর বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।









