করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর এ জন্য শিশুদের চুমু না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চট্টগ্রামে করোনায় এখন পর্যন্ত ৪ শিশু মারা গেছে। নগরের একমাত্র মা ও শিশু হাসপাতালে শিশু ভর্তি আগে থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। শয্যা পেতে আগেভাগে বুকিং দিয়ে রাখছেন স্বজনরা।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গতকাল শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪৩৮ জন শিশু করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছেলে শিশু ১ হাজার ৩৭০ ও মেয়ে শিশু ১ হাজার ৬৮ জন। শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। মারা যাওয়া ৪ শিশুর মধ্যে ৩টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। মৃত্যু হার শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ।
চট্টগ্রামের করোনা বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ও ভর্তি হওয়া শিশুদের ওপর সম্প্রতি পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত শতভাগ শিশুর দেহে 'ভয়ংকর' ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট । যাদের অধিকাংশের বয়স দশ বছরের নিচে। মাত্র ৮ মাস বয়সী ও উপসর্গহীন এক শিশুর শরীরেও মিলেছে এই ভ্যারিয়েন্ট ।
গবেষণায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুর রব মাসুম জানান, শিশুদের নিয়ে পরিচালিত ওই গবেষণায় ৫০ ভাগ ছেলে এবং ৫০ ভাগ মেয়ে শিশুর মধ্যে ভারতীয় ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন তাঁরা। নমুনা সংগ্রহ করা ৯৫ ভাগ শিশুর মধ্যেই ছিল জ্বরের লক্ষণ।
মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মোরশেদ হোসেন জানান, হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ১৭২টি ও জেনারেল বেডে ৬৫০টি শয্যা রয়েছে। এই মুহূর্তে সব শয্যায় রোগী ভর্তি। শয্যা পেতে আগেভাগে বুকিং দিয়ে রাখছেন স্বজনরা। এ রকম পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি বলে জানান তিনি।
ডা. মোরশেদ হোসেন বলেন, শিশুর মা-বাবারা কম সচেতন হওয়ার কারণে শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এখন শিশুদের নিয়ে বাইরে বের না হওয়ায় ভালো। যদি জরুরি বের হতে হয়, তাহলে যেন শিশুকে মাস্ক পরায়। বাইরের লোক না, পরিবারের সদস্যরাও যাতে শিশুর মুখে চুমু না দেয়।










