Ajker Patrika

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, জনভোগান্তি

ইউসুফ আরফাত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৪২
দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, জনভোগান্তি
সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় জনভোগান্তিও শেষ হচ্ছে না। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের এলাহি নূর চা-বাগানসংলগ্ন সাহেবের রাস্তায় পাঠিয়ালছড়ি খালের ওপর নির্মাণাধীন ১২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা গত জুন মাসে। অথচ এ সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে মাত্র অর্ধেক কাজ। এই অবস্থায় ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বি এল করপোরেশন। অথচ দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে আবারও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ৯২১ টাকা। বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৪ টাকা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু নাছের দাবি করেছেন, কাজের ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। একই কার্যালয়ের হিসাবের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের এই পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যে।

মো. আবু নাছের বলেন, ‘সম্প্রতি ব্রিজের গার্ডার ঢালাই হয়েছে। আমাদের হিসাবমতে ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে ব্রিজের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

সেতুটির নির্মাণকাজ পাওয়া মেসার্স বি এল করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী আজম বুখারী জানিয়েছেন, মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে তিনি কাজটি অন্য একজনকে দিয়েছেন।

সেতুর নির্মাণকাজ করছেন নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আজম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে শেষ করতে পারব।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাবে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে যাতায়াতে তাঁদের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জেবল হোসেন বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এত ছোট একটি ব্রিজ নির্মাণে এত সময় লেগে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ও জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে নিত্যদিন একই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে কাজটি শেষ করতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। গত জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজটি শেষ হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত