Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দর: আন্দোলনে যুক্ত ১৫ জনের সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ

  • বদলির পর এবার তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন
  • কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই কর্মচারীরা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর: আন্দোলনে যুক্ত ১৫ জনের সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১৫ কর্মচারীকে বদলির পর এবার তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সে সব কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত জানিয়ে তারা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়েছে। চিঠিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি এর অনুলিপি নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দুদকে পাঠানো চিঠিতে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর, অন্য সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মো. শফিউদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবির, শাকিল রায়হান, মানিক মিজি, শামসু মিয়া, লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দুদক প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বন্দর সচিবের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ওই কর্মচারীরা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত। এসব বিপথগামী কর্মচারীর বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এজেন্সিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ চিঠিতে নাম দেওয়া কর্মচারীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতেও দুদককে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে বন্দরের কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ১৫ জন কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আটজনকে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়। এতে আন্দোলনের মাত্র আরও বেড়ে যায়। অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার আন্দোলন দুই দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা দিয়ে কাজে ফেরেন কর্মচারীরা। এর আগে ওই দিন নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত