Ajker Patrika

খালি কনটেইনারের জট কমাতে বাইরে নিতে চায় বন্দর, এনবিআরকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৯: ২৯
খালি কনটেইনারের জট কমাতে বাইরে নিতে চায় বন্দর, এনবিআরকে চিঠি
খালি কন্টেইনার জটে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত

খালি কন্টেইনারের জট কমাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শিপিং এজেন্ট ও মেইন লাইন অপারেটরদের (এমএলও) উপযুক্ত স্থানে খালি কন্টেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আবারও অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। ২৬ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিপিএ বলেছে, বিদ্যমান বিধিনিষেধ বন্দরের কন্টেইনার জট বাড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

সিপিএ জানায়, বিষয়টি প্রথম ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর এনবিআরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এবং এনবিআর বা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ অবগত নয়।

সিপিএর সচিব সাইয়েদ রিফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে সব আমদানি করা এলসিএল (লেস দ্যান কন্টেইনার লোড) পণ্য আনস্টাফিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৭০ শতাংশ এফসিএল (ফুল কন্টেইনার লোড) কন্টেইনারও পণ্য খালাসের জন্য খোলা হয়। ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক খালি কন্টেইনার তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব খালি কন্টেইনার জাহাজে রপ্তানি বা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পাঠানোর অপেক্ষায় বন্দরের ভেতরেই পড়ে থাকে। কিন্তু প্রতিদিন যত কন্টেইনার খালি হচ্ছে, তার তুলনায় অনেক কম সংখ্যক কন্টেইনার বন্দর থেকে সরানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বন্দরের ভেতরে খালি কন্টেইনারের স্তূপ তৈরি হচ্ছে এবং কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

চিঠি অনুযায়ী, আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করার পর এফসিএল কন্টেইনারগুলো বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতেও জমা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, খালি কন্টেইনারের দায়িত্ব শিপিং এজেন্ট ও এমএলওদের ওপর থাকলেও এনবিআরের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স ছাড়া দেশের কোথাও এসব কন্টেইনার স্থানান্তর বা সংরক্ষণ করা যায় না।

চিঠিতে বলা হয়, অনেক প্রতিবেশী দেশের তুলনায় এ ব্যবস্থা ভিন্ন। সেখানে শিপিং এজেন্ট ও এমএলওরা বন্ড সুবিধা ছাড়াই নিজেদের ব্যবস্থাপনায় যেকোনো উপযুক্ত স্থানে খালি কন্টেইনার সংরক্ষণ করতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকলে বন্দর ও কন্টেইনার ডিপোগুলোর ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে শিপিং লাইনগুলোকে বন্ডের বাইরে খালি কন্টেইনার সংরক্ষণের সুযোগ দিলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা আরও নির্বিঘ্ন সেবা পাবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সাইয়েদ রিফায়েত হামিম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পত্র পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতেই মূলত এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত