Ajker Patrika

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি সতর্কসীমায়, পানিবন্দী আড়াই হাজার পরিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি সতর্কসীমায়, পানিবন্দী আড়াই হাজার পরিবার
পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা

উজানের ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে ১১ সেন্টিমিটার। এতে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার মানুষ।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। পানি ঢুকে পড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুধু পদ্মা নয়, জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদী দুটির প্রতিটিতে পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার করে। মহানন্দা নদীর বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার ও পুনর্ভবা নদীর বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা
পানি বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, পানিতে বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষ গবাদিপশু, ঘরের জিনিসপত্র ও ফসল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও ঘরের আঙিনায়, আবার কোথাও বসতঘরের আশপাশে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গবাদিপশু, ঘরের জিনিসপত্র ও ফসল রক্ষায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ।

ওই দুই কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, ওষুধসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে শিবগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ত্রাণসহায়তার আওতায় আনা হবে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল পর্যন্ত নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলার দুই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৮০০ ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৭০০ পরিবার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত