Ajker Patrika

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: এবার বাসচালকের দোষ স্বীকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩০
এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: এবার বাসচালকের দোষ স্বীকার
ফাইল ছবি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বাসচালক সোহেল রানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দীনের খাসকামরায় তিনি জবানবন্দি দেন।

আজ বিকেলে চার দিনের রিমান্ড শেষে বাসচালক সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে বনানী থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে তাঁর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সোহেল রানা ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি পরিবহনের বাসচালক। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সোহেল রানাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই দিন ওই বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও চালকের সহকারী মাহবুব আলম মনির দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে বাসে ওঠেন তিনি। তাঁর আসার খবরে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে কল করে তিনি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে বাসায় চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করেন ছেলে হাসান। তিনি জানতে পারেন, বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলি থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁর বাবাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবার শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।

জবানবন্দিতে যা বলেছেন বাসচালক সোহেল

আদালত সূত্র বলেছে, বাসের সুপারভাইজার ও চালকের সহকারী যে ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন, বাসচালক সোহেল রানাও একই জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনজনের পরিকল্পনায় বাসযাত্রী ইসমাইল হোসেনকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেছেন, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল বাসে ওঠেন। সুপারভাইজার সাজু যখন ইসমাইলের কাছে ভাড়া চান, তখন তিনি তাঁর কোমরের লুঙ্গির ভাঁজ থেকে টাকা বের করার সময় সেখানে অনেক টাকা দেখতে পান। বিষয়টি সাজু বাসচালক সোহেলকে জানান এবং বলেন যে, ওই যাত্রীর কাছে অনেক টাকা আছে, সম্ভবত তিনি ব্যবসায়ী।

টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাসচালক সোহেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসটি চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দিয়ে ঢাকার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গামছা পেঁচিয়ে তাঁর শ্বাস রোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর তাঁরা বিমানবন্দর দিয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানী আসেন। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে আবার বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে যান। এ সময় টাকা ও ইসমাইলের কাছে থাকা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য জিনিস তাঁরা নিয়ে নেন। বাসে উঠেই ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সুপারভাইজার তাঁকে বলেছিলেন, যেখানে তিনি নামবেন, সেখানে তাঁকে ডেকে তোলা হবে। কিন্তু টাকা দেখে ফেলার পরে লোভ সামলাতে না পেরে তাঁরা ইসমাইলকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেননি। পরে হত্যা করে লাশ এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত