Ajker Patrika

নিষিদ্ধ জালে মেঘনার জলজ প্রাণী নিধন

  • নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ছোট প্রজাতির মাছ, মারা পড়ছে অন্যান্য প্রাণীও।
  • বেহুন্দি জাল, মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছেন জেলেরা।
চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৩৯
চাঁদপুর জেলা শহরের পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট মাছ ধরায় ব্যবহৃত জালসহ নৌকা। ছবি: আজকের পত্রিকা
চাঁদপুর জেলা শহরের পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট মাছ ধরায় ব্যবহৃত জালসহ নৌকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ছোট প্রজাতির মাছ। একশ্রেণির অসাধু জেলে প্রতিবছর শীত মৌসুমে অবৈধ জাল দিয়ে এসব মাছ নিধন করেন। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, রেণু পোনাসহ ছোট মাছ ধ্বংসকারী বেহুন্দি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন অব্যাহত আছে।

মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নদীতে অধিকাংশ মাছই শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙাশ, বেলে, আইড়, রিঠা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, ট্যাংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় ভরপুর থাকে নদীগুলো। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে নিধন করছেন এসব মাছের পোনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার লালপুর, রাজরাজেশ্বর, চিরারচর, পুরান বাজার রনাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, আখনের হাট ও হাইমচর কাটাখালী এলাকায় অসাধু জেলেরা রাতের বেলায় এসব ছোট মাছ ধরেন। দিনের বেলায় এসব জাল ও নৌকা পাড়ে এনে রাখা হয়।

ভোর থেকে নদীপাড়ে পাইকারি বেচাকেনা হয় এসব মাছ। এরপর বাজার ও শহরের অলিগলিতে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এসব ছোট মাছ।

সদরের হরিণা ফেরিঘাট এলাকার প্রবীণ একাধিক জেলে জানান, জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে মধ্যরাতে পাতা জাল, বেহুন্দি জাল, মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নেমে পড়ছেন নদীতে। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, উঠে আসছে পরিবেশের জন্য উপকারী অন্যান্য জলজ প্রাণীও। নিধন করা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দেন জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় করে হাজারো জেলে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজার রনাগোয়াল এলাকায় ছোট সাইজের বেলে গুঁড়া বা সাগরের পোনার নামে ধ্বংস করা হচ্ছে বিভিন্ন মাছের পোনা। রনাগোয়াল নুরু বকাউলের বাড়ির পেছনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি নৌকায় ৫০ থেকে ৬০ মণ মাছ বেচাকেনা হয়। এই কাজে জড়িত চক্রের সদস্য লিটন গাজী, কাঞ্চন, মানিক, হান্নান, কাসিম ছৈয়াল, বাদল, আরশাদ। তাঁরা প্রকাশ্যে বলেন, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অফিসকে ম্যানেজ করে তাঁরা এ কাজ করছেন।

পুরানবাজার রনাগোয়াল

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। গুঁড়া মাছ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ পুলিশকে হাত করা হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বুঝে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নেমে পড়েন তাঁরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত সরকার বলেন, নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে প্রতিনিয়তই কমছে মাছের উৎপাদন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত কম্বিং অভিযান চলমান রয়েছে। বিষয়টি অবগত।

গত সপ্তাহে একাধিক অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বেহুন্দি, চরঘেরা ও মশারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাস এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত