Ajker Patrika

চাঁদপুরে বড় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরে বড় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে
চাঁদপুর মাছ ঘাটে বড় ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইলিশের ভরা মৌসুমে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন স্থানীয় ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। সরবরাহ স্থিতিশীল থাকায় খুশি ক্রেতারা। বড় আকারের ইলিশ মিললেও দাম চড়া রয়েছে এখনো।

চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, বহরিয়া ও হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আনন্দ বাজার এলাকার জেলে জামাল গাজী বলেন, এবার ছোট আকারের ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে; বড় আকারের ইলিশই বেশি মিলছে। গত পাঁচ থেকে সাত বছরের তুলনায় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের পরিমাণ কমেছে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া জেলেপাড়ার প্রবীণ জেলে জামাল মিয়াজী বলেন, জাটকা ও মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে কিছু মৌসুমি জেলে জাটকা আহরণ করেন। এতে ইলিশ বড় হওয়ার সুযোগ পায় না। নিষিদ্ধ ফাঁদের ব্যবহারও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব কারণে আগের তুলনায় ইলিশ কমে যাচ্ছে।

হানাচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাটসংলগ্ন মাছঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নদীতে ইলিশ আছে, তবে গত বছরের তুলনায় দাম কমেনি। পদ্মা-মেঘনার টাটকা ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় জেলেরা ঘাটে মাছ নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা বিক্রি হয়ে যায়। অনেক ক্রেতা সরাসরি ঘাট থেকে ইলিশ কিনতে চান।’

হরিণা মাছঘাটের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বরফ ছাড়া এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

কচুয়া থেকে হরিণা মাছঘাটে আসা ক্রেতা মোহসিন হোসাইন বলেন, তাজা ইলিশ কিনতে তিনি এ ঘাটে আসেন। ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ মিলিয়ে ১০ হাজার টাকার মাছ কিনেছেন। বড় আকারের ইলিশ বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে কেনা কঠিন। তবে ঘাটে ডাকে ইলিশ বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা তুলনামূলক ভালো মাছ বেছে নিতে পারেন।

হাজীগঞ্জ শহর থেকে আসা ক্রেতা মাছুম তালুকদার বলেন, ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম কমেনি। দরদামে মিললে তিনি মাছ কিনবেন। চাঁদপুরের ঘাটে তাজা ইলিশ পাওয়া যায় বলে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে গাড়ি নিয়ে এখানে আসেন।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশের আমদানি কমেওনি, বাড়েওনি; অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। মাঝে মাঝে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা কম। চাঁদপুরের ইলিশ দেশজুড়ে পরিচিত হওয়ায় এখানকার মাছের ক্রেতাও বেশি।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য বিভাগের সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জাটকা রক্ষা ও মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চাঁদপুরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩৫ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত গড়ে ইলিশের সরবরাহ ঠিক আছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি হলে গত বছরের সঙ্গে উৎপাদনের প্রকৃত পার্থক্য জানা যাবে।

ইলিশ গবেষক (অব.) ড. আনিছুর রহমান বলেন, পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ নির্ণয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জেলেরা ছোট আকারের ইলিশ ধরতে কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করছেন। একই সঙ্গে মেঘনার মোহনা ও নদীর তলদেশে পলি জমে বড় বড় চর ও বালুচর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও অভিগমনপথ সংকুচিত ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গভীর পানির মাছ হওয়ায় ইলিশ অগভীর ও চরপ্রবণ পথ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নদীর তলদেশে পানি দূষণের কারণে ইলিশের খাদ্যসংকটও তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত