Ajker Patrika

সংঘর্ষে যুবক নিহত

হামলার মুখে ১০ মাস বাড়িছাড়া ১৩ পরিবার

  • ১০ মাস ধরে ঘরছাড়া পাঁচটি বাড়ির ১৩ পরিবার।
  • লুটপাটের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা।
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  
হামলার মুখে ১০ মাস বাড়িছাড়া ১৩ পরিবার

বগুড়া শাজাহানপুরের ভাদাইকান্দি গ্রামে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়েছে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। গত প্রায় ১০ মাস গ্রামের পাঁচটি বাড়ির ১৩ পরিবার নিজ ভিটেমাটিতে ফিরতে পারছে না। লুটপাটের ঘটনায় আদালতে পৃথক তিনটি মামলা হলেও থানা-পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, ‘ঘটনাটা আমি শুনেছি। পুলিশের পক্ষে বাড়িতে বাড়িতে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। তবে মব করে এখন কেউ পার পাবে না। শক্ত হাতে তা দমন করা হবে।’

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই আল আমিন (৩৫) নামে এক যুবকের সঙ্গে ট্রাকচালক আবুল খায়েরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত আল আমিন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ আগস্ট মারা যান। নিহত আল আমিন স্থানীয় কিশোর গ্যাং নেতা জাহিদ হাসান ওরফে জার্জিসের (৩৮) ভাতিজা। আল আমিনের মৃত্যুর পর জার্জিস বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় ১৩ জন নামীয়, অজ্ঞাত চারজনসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজন আসামি কারাগারে এবং একজন জামিনে রয়েছেন। অন্য আরেকজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বেশ কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়। পরে জার্জিস ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিপক্ষের ওপর মব সৃষ্টি করেন। এরপর আসামিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ হাসান জার্জিস মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কেন ওদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছে, তা ভাদাইকান্দি গ্রামে এসে শুনে বিচার করে দিয়ে তারপর যাবেন।’ কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে জার্জিস হুমকির সুরে বলেন, ‘গ্রামে আসেন। ফোনে এত দূর থেকে এসব বলা যাবে না।’

এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার এসআই আব্দুর রহিম বলেন, ‘২০২৫ সালের ২ আগস্ট ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফোর্সসহ ভাদাইকান্দি গ্রামে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি নিহত আল আমিনের পক্ষের জার্জিসসহ অন্যরা আগেই প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আতঙ্কিত বৃদ্ধ, নারী, শিশুদের হেফাজতে নিয়ে থানায় আনতে চাইলে আমরা ভয়াবহ মবের শিকার হই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত