Ajker Patrika

২ হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায়, চাকরি হারালেন ভূমি কর্মকর্তা

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৪৩
২ হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায়, চাকরি হারালেন ভূমি কর্মকর্তা
শঙ্কর চন্দ্র মালাকার। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের হিজলায় সরকারি খাসজমির খাজনা গ্রহণ করায় এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) চাকরিচ্যুত হয়েছেন। উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (সাময়িক বরখাস্তকৃত) শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে হিজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে ২২ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে তিনি প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় মনে করেছে, এ ধরনের কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছার পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে। এর পরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না—তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাওয়া গেলে দ্রুত উদ্ধার করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত