Ajker Patrika

মুলাদীতে কর্দমাক্ত বিদ্যালয় মাঠে দুর্ভোগ, কাদায় পিছলে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৪৫
মুলাদীতে কর্দমাক্ত বিদ্যালয় মাঠে দুর্ভোগ, কাদায় পিছলে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
বিদ্যালয় মাঠের কাদা মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদী উপজেলার ৭৪ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব চরলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কাদা মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিনই পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে শিশুরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলার কারণে মাঠের ঘাস ও ওপরের মাটি উঠে গিয়ে পুরো মাঠ কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে অনেক শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে তাদের স্কুলের পোশাক নোংরা হচ্ছে, অন্যদিকে অনেকেই আঘাত পাচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কাদা মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষকদেরও।

বিদ্যালয় মাঠের কাদা মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিদ্যালয় মাঠের কাদা মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। এতে তাদের পোশাকের পাশাপাশি বই-খাতাও নষ্ট হয়েছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপদ চলাচলের অন্যতম স্থান হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে মাঠটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যেমন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ‘বহিরাগতরা নিয়মিত মাঠে খেলাধুলা করায় এটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই কাদায় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় নোংরা করছে, আবার অনেকেই ব্যথাও পাচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ওপরও পড়ছে। মাঠে বালু ভরাট করে উঁচু করা হলে কাদা সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য একটি পৃথক রাস্তা নির্মাণ করা গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. রেজাউল করিম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। এরপর মাঠটি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত