Ajker Patrika

জমি নিয়ে বিরোধ, সালিসের আগের রাতে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৯: ০৮
জমি নিয়ে বিরোধ, সালিসের আগের রাতে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
মুলাদী থানা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বসতঘরে লুটপাটের পর আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা গ্রামে বাদশা খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, আগুনে ঘরসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বাদশা খানের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ট্রলারে করে এসে তাঁর টিনের দোতলা বসতঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল ও মূল্যবান মালামাল লুট করে। পরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে এলাকায় ট্রলারের শব্দ শোনা যায়। পরে পোড়া গন্ধ ও আগুনের শিখা দেখে প্রতিবেশীরা বাদশা খানকে খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় স্থানীয়রা তা নেভাতে পারেননি।

সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. নয়ন সিকদার বলেন, রাত দেড়টার দিকে একটি ট্রলারকে ওই এলাকা থেকে চলে যেতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরই বাদশা খানের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

বাদশা খানের ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছর আগে চরপদ্মা মৌজায় ১ একর ৩২ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করেন তিনি। এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ জমি তাঁর ভোগদখলে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে একই গ্রামের মৃত লতিফ শরীফের ছেলে বাচ্চু শরীফ ও তাঁর ভাইয়েরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তাঁরা আদালতে মামলাও করেন।

বাদশা খান জানান, আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বাদশা খান বলেন, সালিশে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রাত ১টার দিকে প্রতিবেশীদের ফোনে আগুনের খবর পান। পরে বাড়িতে গিয়ে পোড়া ঘরের মধ্যে একটি ট্রাঙ্ক ছাড়া মূল্যবান কিছুই খুঁজে পাননি। প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, জমির দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও আসবাবপত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, মালামাল লুটের পর পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় বাদশা খান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু শরীফের ভাই মো. হাদী শরীফ। তিনি বলেন, গভীর রাতে কে বা কারা বাদশা খানের ঘরে আগুন দিয়েছে, তা তাঁরা জানেন না। এ ঘটনার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ বা সালিশের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের ফাঁসাতে অন্য কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত