Ajker Patrika

ওঝার ঝাড়ফুঁকে কাটল সাড়ে চার ঘণ্টা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
ওঝার ঝাড়ফুঁকে কাটল সাড়ে চার ঘণ্টা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

বরিশালের মুলাদীতে সাপের কামড়ে আজাহার হাওলাদার (৩৮) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে ওঝা ডেকে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। এতে কেটে যায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। পরে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

গতকাল শুক্রবার বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ষোলঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজাহার ওই গ্রামের সিকিম আলী হাওলাদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১২টার দিকে বাড়ির কাছের একটি বিলে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান আজাহার। এ সময় একটি সাপ তাঁকে কামড় দেয়। পরে স্বজনেরা স্থানীয় এক ওঝাকে ডেকে এনে ঝাড়ফুঁক করান। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় বেলা আড়াইটার দিকে গোসল করেন তিনি। গোসলের পরপরই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে ওঝাকে খবর দিলে তিনিই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

স্বজনেরা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আজাহারকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আজাহারের প্রতিবেশী হুমায়ুন কবির বলেন, সাপে কামড়ানোর পরপরই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু তা না করে ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দিতে হয়। আজাহারকে বেলা ১২টার দিকে সাপে কামড়ালেও স্বজনেরা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ততক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। এ কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে বরিশালে পাঠান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত