Ajker Patrika

শিক্ষকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
শিক্ষকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
দুই শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদীতে এক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বেলা ২টার দিকে মুলাদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুই দফা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ২১ এপ্রিল দুপুরে আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক আশামনির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ মানববন্ধন করে। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেয়।

প্রাক্‌-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ২০২৬ সালের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ না করায় ওই শিক্ষার্থী ও তার চাচাতো ভাই রিফাত ঘরামী (২২) হামলা চালিয়ে দুই শিক্ষককে আহত করে বলে অভিযোগ করে মানববন্ধনকারীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিল মুলাদী গফুর মল্লিক বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, চরলক্ষ্মীপুর বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীন আহমদ, আল রাজী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আহাদ ভূঁইয়া, আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মৃধা, অভিভাবক শহীদুল্লাহ মৃধা, আনিচ শেখ, আবুল হোসেন মৃধা, মোশাররফ সরদার, সেলিম ফকির, সুলতান সরদার, মাহবুব মৃধা, কাঞ্চন শেখ, ফিরোজ মৃধা, নিপু হাওলাদার, শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী, ফরিদ মৃধা, জুয়েল ভূঁইয়া, শিক্ষক আসাদ হোসেনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

আলহাজ গোলাম কিবরিয়া টিপু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশামনি জানান, রিফাত ঘরামীর চাচাতো ভাই (১৬) ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই ছাত্র নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতো না এবং প্রাক্‌-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। বিষয়টি ওই ছাত্রের অভিভাবক ছানাউল ঘরামীকে অবহিত করলে তিনি ‘পরীক্ষা কঠিন’ হওয়ার আশঙ্কায় ছেলেকে দিয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা জানান। পরে ওই ছাত্রের ফরম পূরণ হয়নি।

২১ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রওনা দেন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক আশামনি। তাঁরা দুজন পূর্ব নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল ব্যাপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে রিফাত ঘরামী ও তার চাচাতো ভাই (ছাত্র) লোকজন নিয়ে পথ রোধ করে। পরে ফরম পূরণ না করার অভিযোগে তারা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে বাঁশ ও স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ সময় প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের হাত ভেঙে যায়। পরে শিক্ষকদের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই ঘটনায় আশামনির বাবা ওসমান গনি বাদী হয়ে ২৫ এপ্রিল মুলাদী থানায় একটি অভিযোগ দেন। তবে থানা-পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগের পরেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুই দফা মানববন্ধন করে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়।

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, দুই শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই শিক্ষকদের ওপর হুমকি রয়েছে। তাই বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার জানান, দুই শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধন করেছে এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে ধরা খেল খুনি, প্রকাশ্যে রোমহর্ষক তথ্য

ময়মনসিংহ মহানগর পুলিশ গঠনসহ ৭ দাবি পুলিশের

৩ দিনের মধ্যে বিস্ফোরিত হতে পারে ইরানের তেল অবকাঠামো: ট্রাম্প

চাঁদপুরে ডিসি অফিসে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে হাতাহাতি, আহত ৪

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা: র‍্যাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত