Ajker Patrika

বিএম কলে‌জ হো‌স্টেলঃ ছাত্রাবা‌সের ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বিএম কলে‌জ হো‌স্টেলঃ ছাত্রাবা‌সের ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী আহত
মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলের ডি ব্লকের একটি কক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়লে এক শিক্ষার্থী আহত হন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলের ডি ব্লকে গতকাল বুধবার ছাদের পলেস্তারা খসে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জরাজীর্ণ এ ও ডি ব্লকের শিক্ষার্থীরা। ঝুঁকিপূর্ণ এ দুই ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশ শিক্ষার্থী বসবাস করছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, শতবর্ষী ডিগ্রি হলটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে অনেক দিন আগে থেকে। কোথাও কোথাও রড বের হয়ে ঝুলছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুঁইয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য ও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখানে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতকাল বিকেলে ডিগ্রি হলে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পরে তাঁরা হল সুপারের কক্ষে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

দুর্ঘটনায় আহত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে তিনি ইনকোর্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা খসে তাঁর ওপর পড়ে। তিনি বলেন, ‘একটুর জন্য মাথার ওপর পড়েনি।’ আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে এ ও ডি ব্লকের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে।

ডিগ্রি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আজিজুল হাকিম সামি বলেন, ‘এ ছাত্রাবাসটি যেন এক মরণফাঁদ। প্রায়ই এর ছাদ ধসে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ডিগ্রি হলের সুপার এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—এটি কর্তৃপক্ষ জানে। শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। আপাতত জরাজীর্ণ কক্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ ও প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পলেস্তারা পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিগ্রি হলের পুরোনো ভবনটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আগেই জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আজকের দুর্ঘটনার পর আমরা ভবনটি নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত