Ajker Patrika

বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধে বরিশালের চরকাউয়া থেকে ৫ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধে বরিশালের চরকাউয়া থেকে ৫ রুটে বাস চলাচল বন্ধ
বরিশালের চরকাউয়া থেকে ৫ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তি নিয়ে চলাচল। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাস মালিক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে বরিশাল নগরঘেঁষা কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব প্রান্তের চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ রোববার পর্যন্ত চরকাউয়ার ৫টি রুটে বাস চলছে না। এসব রুটের শ্রমিকদের দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলবে না। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে।

আজ রোববার বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল থেকে কীর্তনখোলা পেরিয়ে চরকাউয়া পৌঁছে শত শত মানুষ বিপাকে পড়েছে। সেখানে ভ্যান আর থ্রি-হুইলার ছাড়া বিকল্প পথ নেই। এসব যানে ভাড়াও নিচ্ছে বেশি। তাই যাত্রীরা ৫টি রুটেই ২৪ ঘণ্টা ধরে বিপাকে পড়েছে।

চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, চড়কাউয়া থেকে ৫টি রুটে ৬০টি বাস চলাচল করে। এগুলো হচ্ছে চরকাউয়া থেকে লাহারহাট, চরকাউয়া থেকে কাটাদিয়া, চরকাউয়া মাতব্বরের হাট, চরকাউয়া থেকে লক্ষ্মীপাশা এবং চরকাউয়া থেকে ডিসি সড়ক। চরকাউয়ার বাসমালিক ও শ্রমিকেরা চান দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে। কিন্তু সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন খন্দকার গায়ের জোরে কমিটি করে নেতা বনে গেছেন। তার কমিটির শ্রম অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। শাহাদাৎ দাবি করেন, শনিবার বরিশাল নগরে তাঁর ফাইল ছিনতাই করে মামুনের কমিটির সম্পাদক আওলাদ হোসেন স্বপন। এ খবর সন্ধ্যায় শ্রমিকেরা জানলে দুই পক্ষের মধ্যে হইচই ঘটার পর বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শাহাদাৎ আরও বলেন, মালিক ও শ্রমিকের দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি না হওয়া পর্যন্ত এখানকার ৬টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। তাই শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বাস চলছে না। তিনি আরও জানান, মামুন দৈনিক প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা বাড়তি চাঁদা তুলছেন।

তবে নতুন কমিটির সভাপতি দাবিদার ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খন্দকার বলেন, শাহাদাত বাস চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। ওসি বলার পরও বাস ছাড়ছে না। তিনি দাবি করেন, এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার তাঁর নতুন কমিটি ৩ মাস আগে অনুমোদন দিয়েছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিক মো. নাছির খান বলেন, ‘নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলতেই থাকবে। দাবি আদায় না হলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব না।’

এ প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চরকাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, শনিবার রাত থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এখানকার বিভিন্ন রুটে দৈনিক ৩০ হাজারের অধিক মানুষ চলাচল করে। অথচ মালিক সমিতির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তিনি বলেন, বাস মালিক সমিতির কমিটি হওয়ার কথা ভোটে। কিন্তু যে দল ক্ষমতায় থাকে, সে দলের নেতারা পকেট কমিটি করে দ্বন্দ্বে জড়ায়।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাস চলাচলের বিষয়ে তিনি মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত