Ajker Patrika

আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলীতে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
ফাইল ছবি

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জেলেদের অভিযোগ, চাল দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। টাকা না দেওয়ায় কয়েকজন জেলেকে চাল দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। আমতলী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন সাত হাজার। এর মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৫০ জেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৬ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল।

অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার ও বৃহস্পতিবার জেলেদের জন্য ৩৬ মেট্রিক টন চাল খাদ্যগুদাম থেকে ছাড় করিয়ে নেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম। পরে বৃহস্পতিবার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছয় শতাধিক জেলেকে চাল দেওয়ার জন্য আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদামে ডাকা হয়। জেলেরা সেখানে উপস্থিত হলে অল্পসংখ্যক ব্যক্তিকে চাল দেওয়া হয়। তালিকায় নাম না থাকার কারণ দেখিয়ে কয়েক শ জেলেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ডালাচারা গ্রামের জেলে জাকির হাওলাদার ও মোকলেস চৌকিদার বলেন, ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক শ নিবন্ধিত জেলের নাম তালিকায় নেই বলে তাঁদের চাল দেওয়া হয়নি। খেকুয়ানী গ্রামের জেলে মোস্তফা হাওলাদার বলেন, তাঁর নিবন্ধন কার্ড থাকলেও তালিকায় নাম না থাকায় চাল পাননি।

জাকির ও সোহাগ নামের দুই জেলে অভিযোগ করেন, চাল পরিবহনের ভাড়া বাবদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাঁদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা নিয়েছেন। জেলেদের আরও অভিযোগ, ১০ মেট্রিক টন চাল কাগজে-কলমে ছাড় করিয়ে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৬ মেট্রিক টন চাল ছাড় করিয়ে নিয়েছেন। বাকি চাল গুদামেই রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম বলেন, সব জেলের মধ্যে সঠিকভাবে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরাদ্দের সব চাল ছাড় করিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ইদ্রিস আলী বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত