Ajker Patrika

দুর্গম পাহাড়ে এবার ডায়রিয়ার থাবা, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  
দুর্গম পাহাড়ে এবার ডায়রিয়ার থাবা, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক
চিকিৎসা নিচ্ছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত এক রোগী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এবার কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদা ম্রোপাড়ায় ৮ জন, অংহ্লা খুমীপাড়ায় ৬, লাইথাং মেম্বারপাড়ায় ৬, রেমাক্রী বাজারে ১০, জাদিপাড়ায় ৫, কলাপাড়ায় ৫ জন এবং তিন্দু ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিংথোয়াইঅং হেডম্যান পাড়ায় ১০ থেকে ১২ জনসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে চিংথোয়াইঅংপাড়ার বাসিন্দা ও রেমাক্রী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খ্যাইম্রউ মারমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তাকে (আরএমও) জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রেমাক্রী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনার্ডিক্ট ত্রিপুরা বলেন, ‘বর্তমানে অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। দুর্গম এলাকার কারণে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক মংসাচিং মারমা জানান, রেমাক্রী বাজারের তিনটি ফার্মেসিতেই কলেরা স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম লিটক্রে এলাকায় ৮৪ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে আমি কক্সবাজারে সরকারি কর্মসূচিতে আছি। গণমাধ্যমে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত