Ajker Patrika

মদনে চাল কেলেঙ্কারি: দুই কর্মকর্তা বদলি, বহাল তবিয়তে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
মদনে চাল কেলেঙ্কারি: দুই কর্মকর্তা বদলি, বহাল তবিয়তে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক
বদলিকৃত দুই কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় প্রশাসনের হাতে ২০ টন সরকারি চাল জব্দ এবং পরবর্তী তদন্তে গুদামে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ টন চাল পাওয়ার ঘটনায় দুই খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের তির জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের দিকে থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন মদন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া। মাহমুদুল আলমকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এবং দুলাল মিয়াকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার এক আদেশে মাহমুদুল আলমকে বদলি করে খাদ্য অধিদপ্তর। পরদিন বুধবার পৃথক আদেশে দুলাল মিয়াকেও বদলি করা হয়।

এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর গুদাম পরিদর্শন না করে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। অনেকেই বলছেন, বদলি কোনো শাস্তি নয়; বরং গুরুতর অভিযোগের পরও দায়ীদের রক্ষা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলার নেত্রকোনা-মদন সড়কের সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে ট্রাকভর্তি ৬৬৭ বস্তায় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন। এ সময় ট্রাকের চালক শামীম মিয়া ও হেলপার শাহীন মিয়াকে আটক করা হয়।

শুক্রবার সকালে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়া বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুল হক আনারসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে খাদ্য বিভাগ। গত শনিবার সরেজমিন তদন্তে যান খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সেলিমুল আজম। তদন্তে তিনি গুদামে অতিরিক্ত আরও ৪৩ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন চালের অস্তিত্ব পান। পরে গুদামটি সিলগালা করা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেলিমুল আজম বলেন, ‘ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব চাল গুদামে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকেরও যোগাযোগ থাকতে পারে। তিনি দায় এড়াতে পারেন না।’

তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গুদাম মাসে অন্তত একবার পরিদর্শনের কথা থাকলেও মদন খাদ্যগুদাম গত দুই বছরেও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক পরিদর্শন করেননি। এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মু. জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এমন একটা কাজ শুধু গুদাম কর্মকর্তার একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। উপজেলা ও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকও এর সঙ্গে জড়িত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুজনকে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দায়ী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান কখনোই নেবে না।’

উল্লেখ্য, জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়া, ধান-চাল সংগ্রহে কমিশন-বাণিজ্য, নীতিমালা ভেঙে দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের চাল কিনে গুদামে মজুত রেখে অন্য গুদামে সংগ্রহ দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত