
রোববার সকাল ৯টায় ফুলের তোড়া নিয়ে রুদ্র স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে উপস্থিত শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুপ্রীতা। ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি তার খুব পছন্দ। সেই প্রিয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে তার মতো দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিল কবির গ্রামের বাড়ি।
শ্রদ্ধা, গান, কবিতা আর আলোচনায় ২১ জুন রোববার কবির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রোববার সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে সংসদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রাসহকারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রুদ্রের বাড়িতে দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০টায় রুদ্রের বাড়িতে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক রুদ্র অনুজ সুমেল সারাফাত। রুদ্র স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরও আলোচনা করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর আলম, চালনা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, রামপাল সরকারি কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নাজমুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান টিটো। আলোচনা শেষে রুদ্রের গান পরিবেশন করে রুদ্রের গড়া সংগঠন ‘অন্তর বাজাও’।
সভায় বক্তারা বলেন, রুদ্র ছিলেন তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক। সমাজের সব বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছেন। দেশ ও জাতির সংকটে রুদ্রের কবিতা হয়ে উঠেছে তারুণ্যের হাতিয়ার। বুদ্ধিবৃত্তিক আপসকামিতায় দেশ যখন আকণ্ঠ নিমজ্জিত, সত্য যখন নির্বাসনে—এ রকম অস্থির সময়ে রুদ্রকে আমাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য খুব প্রয়োজন ছিল। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন রুদ্র তাঁর কবিতা-গান নিয়ে বেঁচে থাকবেন।
মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবনসীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’ (১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’ (১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।
রুদ্রের রচিত ও সুরারোপিত ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি দুই বাংলায় অসম্ভব জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকেরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজের ছেলে কবির হোসেন (৩০) ও রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তাঁরা দুজনই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
৩৯ মিনিট আগে
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে থাকা যুবক মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ বলছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হালদা ভ্যালি চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, চলাচলে বাধা দূর এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।
১ ঘণ্টা আগে
কর্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগে